মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের রেশ ধরে এবার কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মুহুর্মুহু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশে যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে চালানো এসব হামলায় প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলো।
সবচেয়ে বড় হামলাটি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবিতে। এখানে ড্রোন হামলার ফলে একাধিক স্থানে আগুনের খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ড্রোন ছোঁড়া হয়েছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন তেল উত্তোলন কেন্দ্রেও দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ইরান, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরান এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসনের জবাব দিতেই এই ‘প্রতিরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানোর অনুমতি দেবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এর ফলে জর্ডান ও ওমানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও এখন উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এই গণহামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক দেশ ইতিমধ্যে তাদের নাগরিকদের দ্রুত ওই অঞ্চল ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে। কাতার ও আমিরাতের মতো স্থিতিশীল দেশগুলোতে এমন নজিরবিহীন হামলার ঘটনা বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও আপাতত সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই।
মন্তব্য করুন