জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ দেওয়ার কোনো নৈতিক বা আইনগত অধিকার নেই বলে কড়া মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। বুধবার (১১ মার্চ, ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধী দলের সভাকক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। ড. তাহের বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে 'স্বৈরাচারের দোসর' হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই সংসদের মতো পবিত্র জায়গায় তার ভাষণ দেওয়ার অধিকার আমরা স্বীকার করি না। তবে এই বিষয়ে বিএনপির বর্তমান অবস্থান ও ভূমিকা কী কারণে এমন, তা এখনও তাদের কাছে পরিষ্কার নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিরোধী দলের সংসদীয় ভূমিকা এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের জানান, সংসদে প্রস্তাবিত 'জুলাই সনদ' নিয়ে আলোচনার পরই তারা সরকারের প্রস্তাবিত ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণ বা সমর্থনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের অবস্থান আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে এই বৈঠকটি ডাকা হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কে বলেন, সংসদকে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর জন্য কার্যকর একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে তারা বদ্ধপরিকর। অধিবেশনে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো কীভাবে তুলে ধরা হবে, তার একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট বা প্রতিবাদ করার বিষয়ে বিরোধী জোটের দলগুলোর মধ্যে সমন্বিত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।