ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঐতিহাসিক প্রথম অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে জাতীয় সংসদই হবে দেশের সব যুক্তি-তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ, ২০২৬) বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এই অধিবেশনে তিনি দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এই সংসদের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো রাজপথ বা গোপন কক্ষ নয়, বরং সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমেই দেশের ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বিশেষ করে গুম, খুন এবং 'আয়নাঘর'-এর মতো বর্বর নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সাহসিকতাকে স্মরণ করে বলেন, "তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি।" সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রদূত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, আপসহীন এই নেত্রী গণতন্ত্রের এই শুভ মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে তারেক রহমান বলেন, "ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থকে বড় করে দেখাই আমাদের মূল দর্শন।" তিনি আরও যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দলের নয়, বরং সমগ্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। একটি সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্যমত্যের আহ্বান জানান তিনি। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যে তিনি সব সংসদ সদস্যের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।
বর্তমান সংসদের নজিরবিহীন প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের কাউকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি; তারা হয় কারাগারে, না হয় পলাতক। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে ১৯৭৩ সালের নজির টেনে প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু করার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন তিনি।
মন্তব্য করুন