যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর বর্তমান পরিচালক কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার দাবি করেছে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি হ্যাকার গ্রুপ। 'হানদালা হ্যাক টিম' নামে পরিচিত এই গোষ্ঠীটি শুক্রবার ঘোষণা দেয় যে, তারা প্যাটেলের ব্যক্তিগত তথ্য ও দীর্ঘদিনের পুরনো সব নথিপত্র হাতে পেয়েছে। নিজেদের সক্ষমতা জাহির করতে হ্যাকাররা প্যাটেলের বেশ কিছু ব্যক্তিগত ছবি এবং তার এক দশক আগের কাজের জীবনবৃত্তান্ত বা রেজ্যুমে ইন্টারনেটে প্রকাশ করে দিয়েছে।
ফাঁস হওয়া এই তথ্যের মধ্যে রয়েছে কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত জীবনের বেশ কিছু সাধারণ মুহূর্তের ছবি। এর মধ্যে একটি ছবিতে তাকে একটি এন্টিক স্পোর্টস কারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এবং অন্য একটি ছবিতে তাকে চুরুট হাতে দেখা গেছে। এছাড়া ২০১১ সাল থেকে তার বিভিন্ন ব্যবসায়িক যোগাযোগ, ভ্রমণ সংক্রান্ত ইমেইল এবং পারিবারিক আলাপচারিতাও হ্যাকারদের হাতে পড়েছে বলে জানা গেছে। হ্যাকাররা একে একটি বড় বিজয় হিসেবে দাবি করলেও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাঁস হওয়া এসব তথ্য মূলত প্যাটেলের ব্যক্তিগত স্মৃতির ভাণ্ডার, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো বড় হুমকি নয়।
এফবিআই এই হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে তবে তারা বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, হ্যাকাররা শুধুমাত্র কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত এবং পুরনো কিছু তথ্যই পেয়েছে। সরকারি কোনো সার্ভার বা স্পর্শকাতর কোনো গোপনীয় নথিপত্র হ্যাক হয়নি বলে তারা দাবি করছে। এই ঘটনার পর এফবিআই সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং হানদালা হ্যাক টিমের সদস্যদের সম্পর্কে তথ্যের বিনিময়ে ঘোষিত ১ কোটি ডলারের পুরস্কারের কথা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে।
এই সাইবার হামলার ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনারই একটি অংশ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের জেরে এই সাইবার যুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। কাশ প্যাটেল এর আগেও এমন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন। ২০২৪ সালের শেষের দিকে এফবিআই তাকে সতর্ক করেছিল যে, ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা তার ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। বারবার এমন হামলার ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে, বর্তমানে ডিজিটাল বিশ্বে ব্যক্তিগত তথ্যও এখন বড় ধরনের প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদিও ফাঁস হওয়া তথ্যগুলো ছিল ব্যক্তিগত পর্যায়ের, তবুও এই ঘটনাটি বিশ্বের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার ঝুঁকিকে সামনে নিয়ে এসেছে। হানদালা গ্রুপটি সম্প্রতি আরও কয়েকটি বড় মার্কিন প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা চালানোর দাবি করেছে। বর্তমানে মার্কিন প্রশাসন এই হ্যাকারদের খুঁজে বের করতে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে। তবে এই পুরো পরিস্থিতি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, সাইবার যুদ্ধের এই যুগে খোদ গোয়েন্দা প্রধানদের ব্যক্তিগত জীবনও এখন আর পুরোপুরি নিরাপদ নয় এবং তারা প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক হ্যাকারদের নিশানায় রয়েছেন।
মন্তব্য করুন