ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে তেল স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের হামলা বন্ধ করতে ইসরায়েলকে সরাসরি অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সোমবার ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের কাছে এই বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়। এমনকি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বা আইডিএফ (IDF) প্রধান আইয়াল জামিরের কাছেও এই অনুরোধ পৌঁছে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার দশ দিন পর এই প্রথম ওয়াশিংটন তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলকে হামলার লক্ষ্যবস্তু কমানোর পরামর্শ দিল।
মার্কিন প্রশাসনের এই হঠাৎ নমনীয় অবস্থানের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। প্রথমত, ইরানের তেল স্থাপনাগুলো ধ্বংস হলে সাধারণ ইরানি জনগণ চরম মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে, যা যুক্তরাষ্ট্র এড়াতে চাইছে। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইরানের তেল খাতের সাথে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের। তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, ইরানের জ্বালানি খাতে আঘাত অব্যাহত থাকলে ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালাতে পারে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে বিপন্ন করবে।
বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের তেল স্থাপনায় আরও হামলা হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও ইসরায়েল এই অনুরোধে শেষ পর্যন্ত সাড়া দেবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়, তবে মার্কিন এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এখন ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে গভীর নজর রাখছে।
মন্তব্য করুন