বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরান নৌ-মাইন (বিস্ফোরক) স্থাপন করছে এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১০ মার্চ, ২০২৬) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “যদি ইরান হরমুজ প্রণালিতে কোনো মাইন বসিয়ে থাকে, তবে তা অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে। অন্যথায় ইরানকে এমন এক সামরিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।” ট্রাম্পের এই বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানায়, তারা হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ও স্থাপনা ধ্বংস করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে আছে। তিনি বলেন, “মার্কিন সামরিক বাহিনী বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে (Escort) এই পথ দিয়ে পার করে দেওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করছে।” জেনারেল কেইন আরও যোগ করেন যে, ইরানের নৌ-বাহিনী এবং তাদের মাইন স্থাপনের সক্ষমতা ধ্বংস করা আমেরিকার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর আগে সিবিএস নিউজ জানিয়েছিল, ইরান ছোট ছোট নৌযানের মাধ্যমে দুই-তিনটি করে মাইন নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে এই নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বেইজিং একদিকে ইরানকে উসকানিমূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে বলেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সামরিক অভিযান বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ-চলাচল প্রায় ৯৭ শতাংশ কমে গেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
মন্তব্য করুন