হঠাৎ করেই রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি শক্তিশালী বোয়িং সি-১৭ গ্লোবমাস্টার পরিবহন বিমান অবতরণ করার পর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিমানটি অবতরণের বিষয়ে ক্রেমলিন শুরুতে কোনো তথ্য না জানালেও, পরবর্তীতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিশ্চিত করে যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বা সিআইএ’র পরিচালক জন র্যাটক্লিফ একটি গোপন বৈঠকে অংশ নিতে মস্কো সফর করেছেন। বর্তমান সময়ে উচ্চপর্যায়ের মার্কিন ও রুশ কর্মকর্তাদের মধ্যে এ ধরনের সরাসরি বৈঠক অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও বিশ্লেষণ করে এই সফরের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে লাটভিয়া হয়ে বড় ওই মার্কিন সামরিক বিমানটি রাশিয়া সফর শেষে পুনরায় লাটভিয়ায় ফিরে যায়। এমনকি সিবিএসের কাছে এক জ্যেষ্ঠ ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে, এই সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে জানিয়েছিল যেন প্রতিনিধিদলটি মস্কো ত্যাগ না করা পর্যন্ত রুশ ভূখণ্ডে কোনো ধরনের হামলা চালানো না হয়। সিআইএ প্রধান হিসেবে এটি র্যাটক্লিফের প্রথম রাশিয়া সফর বলে মনে করা হচ্ছে, যদিও মস্কোয় অবস্থানরত রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
এই আকস্মিক ও গোপন সফরের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা জল্পনা চলছে। মস্কোয় সাবেক ব্রিটিশ সামরিক সদস্য জন ফোরম্যানের মতে, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হতে পারে দুই দেশের মধ্যকার চলমান ‘উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ’ করা। এছাড়া জার্মানিতে সাম্প্রতিক ড্রোন তৎপরতার সঙ্গে রাশিয়ার সম্ভাব্য সংযোগ নিয়ে যে গুঞ্জন চলছে, তার প্রেক্ষাপটেও এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পাশাপাশি, রাশিয়ায় কারাবন্দি মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির বিষয়ে আলোচনাও এই সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে রুশ-মার্কিন নাগরিক ক্সেনিয়া কারেলিনার মুক্তি এবং ঐতিহাসিক বন্দিবিনিময় চুক্তিতে সিআইএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ওয়াশিংটন ও মস্কোর সম্পর্ক ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং রাশিয়ার ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর জন র্যাটক্লিফই রাশিয়া সফরকারী অন্যতম সর্বোচ্চ পর্যায়ের মার্কিন কর্মকর্তা। এর আগে ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যকার আলাস্কা সম্মেলন বা শান্তি প্রতিষ্ঠার চলমান আলোচনাগুলো খুব একটা অগ্রগতি না করলেও, সিআইএ প্রধানের এই গোপন মস্কো সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
মন্তব্য করুন