যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টে ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণ চলাকালীন প্রতিবাদ করায় দুই মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর ও রাশিদা তালাইবের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি তাঁদের ‘নিম্ন মেধার’ মানুষ হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁদের এই আচরণ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী এবং তাঁদের দ্রুতই নিজ দেশে ফেরত পাঠানো উচিত।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৪ অক্টোবর, যখন ট্রাম্প কংগ্রেসে অবৈধ অভিবাসী নির্মূল অভিযান নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন। সেই সময় ডেমোক্রেটিক পার্টির এমপি ইলহান ওমর ও রাশিদা তালাইব চিৎকার করে প্রতিবাদ জানান। ইলহান ওমর সরাসরি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি মার্কিনীদের হত্যা করছেন।” এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ভাষণ চলাকালীনই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ে।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, স্টেট অব দ্য ইউনিয়নের মতো একটি সম্মানজনক অনুষ্ঠানে তাঁদের চিৎকার ও উন্মাদনা দেখে মনে হতে পারে যে তাঁরা মানসিকভাবে অসুস্থ। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, যারা কুটিল ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিকদের মতো আচরণ করে, তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সমীচীন নয়। ট্রাম্পের মতে, দেশ ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে তাঁদের যেখান থেকে এসেছেন সেখানেই দ্রুত ফেরত পাঠানো জরুরি।
উল্লেখ্য, ইলহান ওমর সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে ১৩ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। অন্যদিকে রাশিদা তালাইবের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হলেও তাঁর মা-বাবা ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। ট্রাম্পের এই ‘বিতাড়ন’ বার্তার বিরুদ্ধে দুই এমপিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা জবাব দিয়েছেন। ইলহান ওমর জানিয়েছেন, তিনি কেবল তাঁর এলাকায় অভিবাসন অভিযানের নামে সাধারণ মানুষকে হত্যার প্রতিবাদ করেছেন।
রাশিদা তালাইব ট্রাম্পের এই আক্রমণকে ‘পাগলামি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) ‘প্রেসিডেন্টমাজনুন’ (প্রেসিডেন্ট পাগল) হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে বলেন, ট্রাম্প দুজন মুসলিম নারীর সমালোচনা সহ্য করতে পারছেন না বলেই এমন অসংলগ্ন কথা বলছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
মন্তব্য করুন