অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অজি পেসারদের তোপের মুখে পড়ে মাত্র ৩৯ রান তুলতেই ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল টাইগাররা। সেখান থেকে শেষ জুটির লড়াকু প্রতিরোধে শেষ পর্যন্ত ৬৪ রানে অলআউট হয় দল। এটি টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় রান হিসেবে নথিবদ্ধ হলো।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের ওপর খড়্গহস্ত হয়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়ান পেস আক্রমণ। ইনিংসের একদম প্রথম বলেই সাদমান ইসলামের উইকেট তুলে নিয়ে ধাক্কা দেন মিচেল স্টার্ক। এরপর মাত্র ২২ বলের ব্যবধানে ৫ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের টপঅর্ডার গুঁড়িয়ে দেন এই বাঁহাতি পেসার। ম্যাচের প্রথম ঘণ্টাটি টাইগারদের জন্য ছিল এক দুঃস্বপ্নের মতো, কারণ মাত্র ১২ রান তুলতেই সাজঘরে ফিরে যান ৫ ব্যাটার। টপঅর্ডারের তিন ব্যাটার কোনো রান না করেই আউট হন।
মুমিনুল হক ৯ রান এবং মুশফিকুর রহিম ৫ রান করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও অজি বোলিং লাইনআপের সামনে তা টিকেনি। অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজেলউডের বোলিং তোপে একে একে সবাই ফিরে যান। দলের রান যখন ৩৬ এবং ৩৮, তখন যথাক্রমে মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ আউট হন। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল ২০১৮ সালের সর্বনিম্ন রানের লজ্জার রেকর্ডটি ভেঙে যাবে। তবে শেষ উইকেটে শরিফুল ইসলাম ও তাইজুল ইসলাম জুটি বেঁধে ২৫ রান যোগ করে দলকে কোনোমতে ৬০-এর ঘর পার করান। শেষ পর্যন্ত স্টার্কের বলে শরিফুলের আউটে ৬৪ রানে থামে টাইগারদের ইনিংস।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বল হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছেন পেসাররা। মাত্র ১২ রান খরচ করে সর্বোচ্চ ৬ উইকেট শিকার করেন মিচেল স্টার্ক। এছাড়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ৩টি এবং জশ হ্যাজেলউড ১টি উইকেট লাভ করেন।
টেস্টে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন ৪টি দলীয় স্কোর:
৪৩ রান: বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অ্যান্টিা, ২০১৮
৫৩ রান: বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, কেপটাউন, ২০২২
৬২ রান: বনাম শ্রীলঙ্কা, কলম্বো, ২০০৭
৬৪ রান: বনাম অস্ট্রেলিয়া, ম্যাকাই, ২০২৬
মন্তব্য করুন