বরিশাল নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সৎ মামাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ৩ জনকে আটক করেছে।
বরিশাল নগরীতে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ভাগনে ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে সৎ মামাকে বাটাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার মর্মান্তিক অভিযোগ উঠেছে। হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তদের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব পুরানপাড়া বটতলা এলাকার হাওলাদার বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম কামরুল ইসলাম (৫২)। তিনি উক্ত এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে কামরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর সৎ মামাতো ভাই সুরুজ ও ভাগনেদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকালে বিরোধপূর্ণ জমিতে সীমানা প্রাচীর বা দেয়াল নির্মাণ করতে যান কামরুল। এতে সুরুজ ও তাঁর স্বজনেরা বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সুরুজ, তাঁর বাবা আনোয়ার হোসেন এবং মিরাজ মিলে কামরুল ইসলামকে মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এরপর সঙ্গে থাকা কাঠ কাটার বাটাল দিয়ে তাঁর পিঠে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
রক্তাক্ত কামরুলকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে স্থানীয় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কামরুলের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. জামাল হোসেন জানান, "জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে আনোয়ার হোসেন, তাঁর স্ত্রী খাদিজা এবং ছেলে মিরাজকে আটক করেছি। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"