মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে হোয়াইট হাউসে সামরিক প্রধানদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৯ নভেম্বর অমাবস্যার অন্ধকার রাতকে সামরিক আক্রমণের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হবে কি না—তা নিয়ে হোয়াইট হাউসে নিজের শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা প্রধানদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের একাংশ এই যুদ্ধের বিরোধিতা করার পর এবং ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি উত্তপ্ত হওয়ার মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৯ নভেম্বর মধ্যপ্রাচ্যে অমাবস্যার রাত হওয়ায় আকাশ ও ভূখণ্ডে ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকবে, যা কৌশলগত সামরিক আক্রমণের জন্য অন্যতম উপযোগী সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। ট্রাম্প সরকারের সামরিক উপদেষ্টারা এই দিনটিকে সামনে রেখে তাদের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করছেন। বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র গত সাত মাস ধরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোর ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। তিনি সরাসরি পুরো দেশটি ধ্বংস করতে চান না, তবে পরিস্থিতি যদি চরম আকার ধারণ করে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করবেন না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সামনে মূলত তিনটি পথ খোলা রয়েছে—
১. নতুন করে সরাসরি সামরিক হামলা চালানো।
২. ইরানের ওপর চলমান কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা।
৩. কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি নতুন করে মার্কিন রণতরী ও সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হলেও ট্রাম্পের নিজের প্রশাসনের ভেতরেই এ নিয়ে মতভেদ দেখা গেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিলেও পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এবং ইসরায়েল চাচ্ছে পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করে এই সংঘাতের চূড়ান্ত ফয়সালা করতে।
অন্যদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ধাক্কার পর ওয়াশিংটনের রাজনীতি এখন দারুণভাবে বিভক্ত। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে চলমান যুদ্ধের খরচ ও সামরিক কৌশল নিয়ে তীব্র বাকযুদ্ধ চলছে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতির কঠোর সমালোচনা করলেও আগামী দিনের সামরিক বাজেট বন্ধের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। সব মিলিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।