ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর এবার তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল. বিগত ২০২১ সালে করোনাকালীন সময়ে অজিদের ৪-১ ব্যবধানে হারানোর সুখস্মৃতি থাকলেও টি২০ বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়া বাংলাদেশের সামনে এটি এক নতুন চ্যালেঞ্জ. অন্য দিকে বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর এক নতুন দল নিয়ে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া. এই সিরিজে ট্রাভিস হেড, ক্যামেরন গ্রিন, প্যাট কামিন্স এবং জশ হ্যাজলউডের মতো তারকাদের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে. তবে অজি শিবিরের জন্য বড় স্বস্তি হলো চোট সারিয়ে দলে ফিরেছেন অধিনায়ক মিচেল মার্শ. ওয়ানডে সিরিজে অজি ব্যাটারদের ভুগিয়েছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ. তাই টি২০ সিরিজেও মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানাদের নিয়ে সাজানো পেস ইউনিট ধরে রেখেছে স্বাগতিকরা, যা সফরকারীদের জন্য আবারও কঠিন পরীক্ষা হতে পারে.
বাংলাদেশ দলে অধিনায়ক লিটন দাসের খেলা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে, কারণ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে পায়ে চোট পেয়ে তিনি মাঠ ছেড়েছিলেন. তাঁর কাভার হিসেবে দলে নেওয়া হয়েছে সৌম্য সরকারকে. এছাড়া পারভেজ হোসেন ইমনও অসুস্থতার কারণে শতভাগ ফিট নন. বোলিং লাইনে মোস্তাফিজ ও নাহিদ রানার খেলা প্রায় নিশ্চিত হলেও তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার কঠিন সমীকরণে পড়তে পারে দল. শরিফুল শেষ ওয়ানডেতে দুর্দান্ত বল করার পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টি২০ ম্যাচে ১৯ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন. ৫ দিনে ৩টি ম্যাচ থাকায় পেসারদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলানোর পরিকল্পনাও থাকতে পারে টিম ম্যানেজমেন্টের.
অস্ট্রেলিয়া দলে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও মার্কাস স্টয়নিসের মতো অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে অ্যারন হার্ডি, কুপার কনোলি এবং অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা নিখিল চৌধুরী ও জোয়েল ডেভিসের মতো তরুণদের ওপর ভরসা রাখা হয়েছে ২০২৮ অলিম্পিক ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে. বোলিং আক্রমণে স্পেন্সার জনসনের চোট কাটিয়ে ফেরাটা অজিদের গতি বাড়াবে, যিনি সম্প্রতি আইপিএল ২০২৬-এ চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলেছেন. মিচেল স্টার্কের টি২০ অবসর নেওয়ার পর তাঁর জায়গা পূরণে জনসনের দিকেই তাকিয়ে থাকবে নির্বাচকরা. ওয়ানডেতে দারুণ সেঞ্চুরি করা কুপার কনোলি এই ম্যাচেও টপ অর্ডারে ওপেনিংয়ে দেখা যেতে পারেন.
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে জেনুইন ব্যাটিং কন্ডিশন আশা করা হলেও পরিসংখ্যান বলছে গত ১২ মাসে চট্টগ্রামে প্রথমে ব্যাট করা দলের গড় রান ছিল ১৫৯. মজার ব্যাপার হলো, এই মাঠে শেষ তিনটি ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করা কোনো দলই জয়ের মুখ দেখেনি. তাই টস জয়ী দল প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে. ম্যাচ চলাকালীন সময়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে দুপুরের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা খেলার ভাগ্য নির্ধারণে বা ওভার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে.
মন্তব্য করুন