২০২৫ সালের পুরো সময়জুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগন কর্তৃক প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, বছরজুড়ে মার্কিন সেনাবাহিনীতে মোট ২০ হাজার ৪৯২টি যৌন নিপীড়নের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
পেন্টাগন তাদের বিবৃতিতে অবশ্য দাবি করেছে যে, সামগ্রিকভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে এই ধরনের অপরাধের প্রবণতা কিছুটা হ্রাস পাচ্ছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় দুই বছর আগে অর্থাৎ ২০২৩ সালে প্রতিরক্ষা বাহিনীতে যত যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছিল, তার তুলনায় ২০২৫ সালে অপরাধের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার ৫০০টি কম ছিল। অপরাধীদের প্রোফাইল বিশ্লেષণে দেখা গেছে, এই তালিকায় নারী ও পুরুষ উভয় সেনাকর্মকর্তা এবং সদস্যদের নাম রয়েছে। তবে ২০২৩ সালের তুলনার সঙ্গে তুলনা করলে ২০২৫ সালে নারী সেনাকর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে নিপীড়নের হার ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং পুরুষ সদস্যদের ক্ষেত্রে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
পাশাপাশি, গত দুই বছরে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়নের ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আসার বা রিপোর্ট করার হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। পেন্টাগনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সংঘটিত মোট অপরাধের মাত্র ২৫ শতাংশ অভিযোগ আকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়েছিল, যা ২০২৫ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ শতাংশে। এই ধরনের অপরাধের শিকার সামরিক সদস্যদের দ্রুত চিকিৎসা, মানসিক কাউন্সেলিং এবং অন্যান্য পুনরুদ্ধারমূলক সেবার আওতায় আনতে পেন্টাগন ভুক্তভোগীদের আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে জোরালো উৎসাহিত করছে। কর্তৃপক্ষের মতে, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তদন্ত এবং অপরাধীদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুদ্ধ বিভাগের কর্মী ও প্রস্তুতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যান্টনি জে. টাটা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, মর্যাদা, সম্মান এবং শৃঙ্খলা হলো একজন প্রকৃত যোদ্ধার আদর্শ এবং যেকোনো সামরিক বাহিনীর সামগ্রিক প্রস্তুতির মূল ভিত্তি। যৌন নিপীড়ন ও যৌন হয়রানির মতো বিষয়গুলো এই মৌলিক মূল্যবোধগুলোকে ক্ষুণ্ণ করে, পারস্পরিক আস্থা নষ্ট করে এবং সামরিক অভিযানের সাফল্যে বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের পূর্ণ সুরক্ষা প্রদান, উচ্চ মান বজায় রাখা এবং একটি ঐক্যবদ্ধ, দক্ষ ও সদাপ্রস্তুত বাহিনী গড়ে তোলার ব্যাপারে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাম্প্রতিক এই পেন্টাগন প্রতিবেদনটি মূলত প্রশাসনের সেই অঙ্গীকারেরই বাস্তব প্রতিফলন বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন