আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বের ম্যাচটি যেমন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, তেমনি ম্যাচ-পরবর্তী উত্তজনাও যেন থামছেই না। মাঠের বিতর্কিত রেফারিং এবং গোল বাতিলের ঘটনার পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ম্যাচ শেষে লিওনেল মেসি মিশরের ডাগআউটের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, মেসি মিশরের বেঞ্চের দিকে কিছু বলার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মিশরের গোলকিপিং কোচ সাফান এল-সাঘির হঠাৎ করেই নিয়ন্ত্রন হারিয়ে মাঠের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং চিৎকার করতে করতে মেসির দিকে তেড়ে যান। মেসির সতীর্থ লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও লিয়ান্দ্রো পারেদেস দ্রুত তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সাফান এল-সাঘির যেভাবে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মেসির দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছিলেন, তা দেখে মাঠের অন্য সদস্যরা দ্রুত তাকে ধরে সরিয়ে নেন। এই অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের জন্য রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে তাকে সরাসরি লাল কার্ড প্রদর্শন করেন।
একই ম্যাচে মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানকেও রেফারির সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। তিনি দুই হাত ক্রস করে রেফারির দিকে ‘ক্রস’ আকৃতির ইশারা করেন, যা ম্যাচ চলাকালীন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও এই ইশারার সঠিক অর্থ নিয়ে নানা জল্পনা রয়েছে, তবে হাসানের এই উত্তপ্ত আচরণে তার ভাই ও সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসান তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এরপরও হোসাম হাসানকে হলুদ কার্ডের সম্মুখীন হতে হয়।
ফুটবল প্রেমীদের মতে, ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিংয়ের কারণে মিশরের কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে যে ক্ষোভ জমা হয়েছিল, তার বহিঃপ্রকাশই ঘটেছে ম্যাচ শেষে এই বিশৃঙ্খল ঘটনায়। তবে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির সাথে এমন সরাসরি দ্বন্দ্বে জড়ানো এবং গোলকিপিং কোচের মাঠে প্রবেশ করে তেড়ে যাওয়ার ঘটনাটি এই টুর্নামেন্টের শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ফিফা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন