ভারতের অযোধ্যায় নির্মিত রামমন্দিরের দানের অর্থ আত্মসাত নিয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। কোটি কোটি মানুষের আবেগের সাথে জড়িত এই মন্দির প্রকল্প ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আসার পর থেকে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস বর্তমান বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগেছে। কংগ্রেসের স্পষ্ট দাবি, ঘটনার গভীরতা বিবেচনা করে এর একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অপরিহার্য। পাশাপাশি, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘ নীরবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে দলটি।
মঙ্গলবার এই ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় যাওয়ার জন্য কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তবে কংগ্রেসের অভিযোগ, কর্মসূচি শুরুর আগেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তাদের দলীয় সভাপতি অজয় রায়সহ বেশ কয়েকজন নেতাকে আটকে দেয় এবং গৃহবন্দী করে রাখে। বিরোধী দলের সাংবিধানিক অধিকার এভাবে খর্ব করার বিষয়টি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে এই নীরবতা ভাঙার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেসের মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনাতে বলেন যে, এটি কেবল সাধারণ কোনো আর্থিক অনিয়ম নয়, এটি দেশের কোটি কোটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বিশ্বাসের অবমাননা। তিনি অভিযোগ করেন যে, ভূমিপূজন থেকে শুরু করে প্রাণপ্রতিষ্ঠা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিকভাবে যেভাবে জড়িয়েছিলেন, তাতে এ ধরনের অভিযোগ ওঠার পর তার অবস্থান স্পষ্ট করা নৈতিক দায়িত্ব। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে যে, অবসরপ্রাপ্ত নয়, বরং সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান কোনো বিচারপতির নেতৃত্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
মন্দির পরিচালনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। দলটির মতে, অভিযোগ ধামাচাপা না দিয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে, এই স্পর্শকাতর বিষয়ে বিজেপি বা রামমন্দির ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রামমন্দির ভারতের রাজনীতির অন্যতম সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় এই অভিযোগগুলো আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। একদিকে কংগ্রেস বিষয়টিকে জবাবদিহিতার মোড়কে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বিজেপি সরকারও এখন বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্তের দাবি এবং ক্রমবর্ধমান এই রাজনৈতিক উত্তাপ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।
মন্তব্য করুন