২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ম্যাচটি একদিকে যেমন গোল আর উত্তেজনায় ভরপুর ছিল, অন্যদিকে রেফারিং বিতর্ক এবং মিশরের কোচ হোসাম হাসানের রহস্যময় আচরণের কারণে ফুটবল বিশ্বে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হারের পর মিশরের ডাগআউটে রেফারিং নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে মিশরের কোচ হোসাম হাসান রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে গিয়ে দুই হাত বুকের সামনে ক্রস করে ‘এক্স’ আকৃতির একটি সংকেত প্রদর্শন করেন। এই ঘটনার পরপরই রেফারি তাকে হলুদ কার্ড দেখান, যা নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে ব্যাপক রহস্য ও প্রশ্ন।
ফিফার নতুন বর্ণবাদবিরোধী প্রটোকল অনুযায়ী, মাঠে বর্ণবাদী আচরণ বা বৈষম্যের শিকার হলে খেলোয়াড়, কোচ বা ম্যাচ কর্মকর্তারা দুই হাত ক্রস করে এই ‘এক্স’ সংকেত দিয়ে রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন। নিয়ম অনুযায়ী, এমন সংকেত পেলে রেফারির দায়িত্ব হলো পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনে ম্যাচ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা। তবে ফিফার কোনো নির্দেশিকাতেই এমন সংকেত দেওয়ার জন্য খেলোয়াড় বা কোচকে হলুদ কার্ড দেখানোর বিধান নেই। ফলে হোসাম হাসান কি বর্ণবাদী কোনো আচরণের প্রতিবাদ করছিলেন নাকি রেফারিংয়ের প্রতি নিজের চূড়ান্ত হতাশা প্রকাশের জন্য তিনি এই প্রতীকী ভাষা ব্যবহার করেছিলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।
মিশরের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে গোল বাতিল এবং পেনাল্টি না দেওয়ার মতো ঘটনার বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে। হোসাম হাসানের কার্ড পাওয়ার বিষয়টি সেই বিতর্কের আগুনে যেন নতুন ঘি ঢেলে দিয়েছে। ফিফার পক্ষ থেকে এই ঘটনা বা রেফারির সিদ্ধান্তের ব্যাপারে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। অনেকে ধারণা করছেন, কোচ হয়তো রেফারিকে ইঙ্গিত করতে চেয়েছিলেন যে ম্যাচটি স্বচ্ছ হচ্ছে না, তবে এই প্রতীকী প্রতিবাদ তাকে কার্ডের মুখে ঠেলে দিয়েছে। পুরো বিষয়টি এখন ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির ওপর নির্ভর করছে এবং ম্যাচ অফিসিয়ালরা কেন এই সংকেতকে অবমাননা হিসেবে গণ্য করলেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মাঝে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য করুন