পাকিস্তানের অস্থিরতাপ্রবণ বেলুচিস্তান প্রদেশে পাকিস্তান কোস্ট গার্ডের একটি ক্যাম্পে এক ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে জিওয়ানি উপকূলীয় শহরের পানওয়ান এলাকায় অবস্থিত কোস্ট গার্ড ক্যাম্পে এই হামলা চালানো হয়।
বিএলএ-র পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জানানো হয়, তাদের বিশেষ ইউনিট ‘মাজিদ ব্রিগেড’-এর এক সদস্য বিস্ফোরকভর্তি একটি মাজদা গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটান। এই বিস্ফোরণে ক্যাম্পের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। এরপর তাদের ‘ফতেহ স্কোয়াড’ নামক আরেকটি সশস্ত্র ইউনিট ক্যাম্পে ঢুকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বিএলএ-র দাবি, এই হামলায় অন্তত ৩০ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য বেলুচিস্তান পোস্ট’ জানিয়েছে যে, গোয়াদর জেলার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জিওয়ানি এলাকায় এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। বিএলএ-র মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ জানিয়েছেন, এটি তাদের একটি সুপরিকল্পিত আত্মঘাতী কমান্ডো অভিযান ছিল। তবে এই হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষ বা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা হতাহতের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিএলএ-র করা দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিএলএ দীর্ঘদিন ধরেই তাদের সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে আসছে। মূলত প্রদেশের সরকারি স্থাপনা, সামরিক ও আধাসামরিক ক্যাম্পগুলোই তাদের হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু। এই সাম্প্রতিক হামলা অঞ্চলটিতে নতুন করে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি করেছে। সরকার কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য প্রকাশের পরই প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।
মন্তব্য করুন