|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 14, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

চার বছর ধরে জনসমক্ষে নেই অং সান সু চি: বেঁচে আছেন কি তিনি?

অং সান সু চি। ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের গণতন্ত্রের আইকন ও নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির দীর্ঘ চার বছরের নীরবতা এখন বিশ্বজুড়ে এক গভীর রহস্য ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালের পর থেকে সামরিক জান্তা পরিচালিত আদালতে শুনানির শেষ পর্বের পর আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি ৮১ বছর বয়সি এই নেত্রীকে। তার বর্তমান অবস্থা ও তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে তার পরিবারসহ বিশ্বনেতারা এখন ‘প্রুফ অব লাইফ’ বা বেঁচে থাকার স্পষ্ট প্রমাণ দাবি করছেন।

সু চির ছোট ছেলে কিম আরিস আন্তর্জাতিকভাবে এই ইস্যুতে প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি সম্প্রতি লন্ডনে এক বক্তব্যে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তার মা কার্যত জনসমক্ষ থেকে নিখোঁজ হয়ে গেছেন। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সু চির আইনজীবীদেরও তার সাথে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। জান্তা সরকার এ বছরের শুরুতে তাকে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দি করার কথা বললেও, তার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ তারা দিতে পারেনি। বরং সু চির ছেলে কিম আরিস জান্তা সরকারের প্রকাশিত একটি ছবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন যে ছবিটিতে তার মায়ের সাম্প্রতিক অবস্থা প্রতিফলিত হয় কি না, তা নিশ্চিত নয়।

সু চির মুক্তি ও তার শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমারের জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের কাছে সু চির বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। এছাড়া জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপও তার সাথে সাক্ষাতের অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে কূটনীতিকদের মতে, সু চির নাম শুনলেই জান্তা প্রধান অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। নেপিডোতে তার বাড়িটি ভেঙে ফেলা এবং ইয়াঙ্গুনের পুরনো বাসভবনে তাকে না রাখার মতো ঘটনাগুলো জল্পনা বাড়িয়ে দিচ্ছে যে, হয়তো তিনি গুরুতর অসুস্থ কিংবা বেঁচে নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, সু চিকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখা মূলত সামরিক জান্তার এক রাজনৈতিক কৌশল। মিয়ানমারের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও গণতন্ত্রকামী বাহিনী এখন জান্তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। জান্তা ভয় পাচ্ছে, সু চিকে মুক্তি দিলে হয়তো তিনি আবারও জনগণের মাঝে অহিংস গণ-আন্দোলন গড়ে তুলবেন, যা তাদের শাসনামলের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এদিকে মিয়ানমারের কারাগারে সাড়ে চৌদ্দ হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে এ বছরেই অন্তত ৬০ জন চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন। এমন প্রতিকূল পরিবেশে প্রিয় নেত্রীর দীর্ঘ নীরবতা ও বন্দিদশা বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রকামীদের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করছে।

মিয়ানমারের এই সংকটময় পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা নিয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাবি শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে মারধর: বৈষম্যবিরোধী ছাত

1

২০২৯ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল ‘ডিপ স্টেট’: আসি

2

হোসেনি দালান থেকে বের হলো আশুরার ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল

3

ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূ

4

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: ম্যাচ পাতানোর কোনো প্রমাণ পায়নি ফিফার ইন

5

আইসিসির আচরণবিধি ভেঙে শাস্তির মুখে নাহিদ রানা, যোগ হলো ডিমের

6

ছাগল বাঁচাতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের মৃত্যু

7

গাজায় ইসরায়েলি হামলা: পুলিশ সদর দপ্তরে নিহত ৯

8

এসিআই প্রিমিও প্লাস্টিকে সেলস অফিসার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২

9

বিশ্বকাপে মেসির নতুন রেকর্ড: জর্ডানকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার গ্

10

দর্শনা সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ

11

তিমুর-লেস্তের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সম্পূর্ণ স্কোয়াড পাচ্ছে ইন

12

জনপ্রত্যাশা পূরণে সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা হবে: স

13

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমল, নতুন দর জানাল বাজুস

14

নিরাপত্তা ও বাণিজ্য বাড়াতে একজোট বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম

15

বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের আধিক্য: সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংক

16

মুক্তি পেল বহু প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘রামায়ণ: পার্ট ১’-এর ট্রেলা

17

মার্কিন হামলার প্রতিবাদে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

18

ঐক্যবদ্ধ হলে দুর্ভেদ্য কাঠামোও বদলে দেওয়া যায়: অধ্যাপক ইউনূস

19

পরিবার বাঁচাতে নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন কোরিয়ান অভিনেত্রী

20