মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে দুর্দান্ত পারফর্ম করলেও মাঠের আচরণে আইসিসির আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন বাংলাদেশের গতিদানব নাহিদ রানা। গত মঙ্গলবার (৯ জুন) ঢাকার শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম ওডিআই ম্যাচ চলাকালীন আইসিসির আচরণবিধি (লেভেল ১) ভঙ্গ করায় এই তরুণ পেসারকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার (রেপ্রিম্যান্ড) করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।
আইসিসির মিডিয়া রিলিজ অনুযায়ী, নাহিদ রানা আইসিসি খেলোয়াড় আচরণবিধির ২.৫ ধারা লঙ্ঘন করেছেন। এই ধারাটি মূলত আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালীন কোনো ব্যাটার আউট হওয়ার পর তাকে উদ্দেশ্য করে এমন কোনো ভাষা, অঙ্গভঙ্গি বা আচরণ ব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত, যা সেই বিদায়ী ব্যাটারকে অপমান করে কিংবা তার কাছ থেকে কোনো উগ্র বা আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে।
এই নিয়ম ভাঙার কারণে শাস্তিস্বরূপ নাহিদ রানার শৃঙ্খলা রেকর্ডে ১টি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ করা হয়েছে। গত ২৪ মাসের মধ্যে এটি রানার দ্বিতীয় অপরাধ হওয়ায় তাঁর ঝুলিতে এখন মোট ডিমেরিট পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ২-এ। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ২৪ মাসের মধ্যে কোনো খেলোয়াড়ের ডিমেরিট পয়েন্ট ৪ বা তার বেশি হলে তা সাসপেনশন পয়েন্টে রূপান্তর হয়, যার ফলে ১টি টেস্ট অথবা ২টি ওডিআই বা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে পারেন সেই খেলোয়াড়।
ঘটনাটি ঘটেছিল প্রথম ওডিআইতে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ১১তম ওভারে। অজি ব্যাটার জোশ ইনগলিসকে আউট করার পর নাহিদ রানা অত্যন্ত আগ্রাসীভাবে বিদায়ী ব্যাটারের দিকে তেড়ে যান এবং কিছু অনুপযুক্ত বা আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন, যা মাঠের পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে পারত। ম্যাচ শেষে নাহিদ রানা নিজের ভুল স্বীকার করে নেন এবং আইসিসির ম্যাচ রেফারিদের আন্তর্জাতিক প্যানেলের সদস্য প্রকাশ ভাটের প্রস্তাবিত শাস্তি মেনে নেন। খেলোয়াড় নিজে দোষ স্বীকার করায় কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।
অন-ফিল্ড আম্পায়ার অ্যালেক্স হোয়ার্ফ ও গাজী সোহেল, তৃতীয় আম্পায়ার আহসান রাজা এবং চতুর্থ আম্পায়ার মোর্শেদ আলী খান এই অভিযোগটি আনেন। সাধারণত লেভেল ১ ভাঙার সর্বনিম্ন শাস্তি হিসেবে আনুষ্ঠানিক তিরস্কার এবং সর্বোচ্চ ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা করা হতে পারে, যার সাথে ১ বা ২টি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ হয়।
মন্তব্য করুন