ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোকে দলে ভেড়ানোর ক্ষেত্রে নিয়মভঙ্গের অভিযোগে ইন্টার মায়ামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে মেজর লিগ সকার (এমএলএস)। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে চুক্তি শেষের পর ফ্রি এজেন্ট হিসেবে ক্যাসেমিরো ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিলেও, এই সাইনিংয়ের নেপথ্যে টেম্পারিংয়ের অভিযোগ তুলেছে লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সি (এলএ গ্যালাক্সি)। এমএলএস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তারা এই বিষয়ে সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য প্রকাশ করবে না।
ইএসপিএনের সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ক্যাসেমিরোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নিয়ম লঙ্ঘন করার অভিযোগ এনে এমএলএসের কাছে একটি টেম্পারিং ক্লেইম দাখিল করেছিল এলএ গ্যালাক্সি। এমএলএসের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ক্লাব যেকোনো সময়ে সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড়কে তাদের ‘ডিসকভারি লিস্ট’-এ রাখতে পারে, যা সেই ক্লাবকে অন্য কোনো এমএলএসের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা ছাড়াই প্রথম আলোচনার একচ্ছত্র অধিকার দেয়। ক্যাসেমিরোর ক্ষেত্রে গ্যালাক্সির এই ডিসকভারি প্রায়োরিটি থাকায় ইন্টার মায়ামিকে মূলত ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সের এই ক্লাবটির কাছ থেকে খেলোয়াড়টির অধিকার বা রাইটস কিনে নিতে হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে ইন্টার মায়ামি ও গ্যালাক্সি এই ডিসকভারি প্রায়োরিটি নিয়ে নিজেদের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে, তবুও লিগ কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে তাদের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়ার পর ইন্টার মায়ামির সঙ্গে ২০২৭ সালের এমএলএস স্প্রিন্ট মৌসুম পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন ক্যাসেমিরো, যেখানে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি বাড়ানোর বিকল্প সুবিধাও রাখা হয়েছে। সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ক্যাসেমিরো গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তিনি আগেই গ্যালাক্সির সঙ্গে কথা বলে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে মায়ামি শহর এবং ক্লাবটির চমৎকার প্রজেক্ট ও ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলার ইচ্ছের কারণেই তিনি কেবল ইন্টার মায়ামিতেই যোগ দিতে চান। এমএলএসের নিয়ম ভেঙে এই ট্রান্সফার সম্পন্ন হয়েছে কি না এবং গ্যালাক্সির সঙ্গে হওয়া সমঝোতার চূড়ান্ত শর্তগুলো কী ছিল, তা তদন্ত শেষ হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে লিগ কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন