দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Aug 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

কক্সবাজার সৈকতে মৃত্যুফাঁদ: ১৮ বছরে প্রাণ হারিয়েছে ১৩১ পর্যটক

০ শেয়ার
কক্সবাজার সৈকতে মৃত্যুফাঁদ: ১৮ বছরে প্রাণ হারিয়েছে ১৩১ পর্যটক
ছবি: সংগৃহীত

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও জিওটিউব বাঁধের অনিয়মের কারণে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে। গত ১৮ বছরে প্রাণ হারিয়েছে ১৩১ পর্যটক।

সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • দিনের বেলায় লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকা বিশ্বসেরা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত রাত নামলেই রূপ নেয় এক আতঙ্কের জনপদে।
  • প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার ও পাইপ বসিয়ে সৈকতের তলদেশ ও বালিয়াড়ি থেকে নির্বিচারে বালু লুট করে চলেছে।
  • আর এই অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে তৈরি হচ্ছে গভীর গর্ত ও চোরাবালি, যা অসচেতন পর্যটকদের জন্য নিশ্চিত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

দিনের বেলায় লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকা বিশ্বসেরা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত রাত নামলেই রূপ নেয় এক আতঙ্কের জনপদে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার ও পাইপ বসিয়ে সৈকতের তলদেশ ও বালিয়াড়ি থেকে নির্বিচারে বালু লুট করে চলেছে। আর এই অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে তৈরি হচ্ছে গভীর গর্ত ও চোরাবালি, যা অসচেতন পর্যটকদের জন্য নিশ্চিত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ বছরে সৈকতের এমন গুপ্তখাল ও চোরাবালিতে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১৩১ জন পর্যটক।

সৈকতের ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জিওটিউব বাঁধের ক্ষেত্রেও চরম অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বাঁধের জন্য বাইরে থেকে বালু আনার কথা থাকলেও, ঠিকাদাররা বাঁধের মাত্র ১০ থেকে ১৫ ফুট দূর থেকেই মেশিন দিয়ে বালু তুলে তা নির্মাণ করেছেন। এর ফলে সমুদ্রের তলদেশে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়ে ঝুঁকি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি কলাতলী পয়েন্টের ভাঙ্গার মোড় এলাকায় এমন অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় জেলা প্রশাসনের পর্যটন শাখা অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু মেশিন, পাইপ ও জিওব্যাগ জব্দ করেছে। পর্যটন শাখার ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান সায়েম জানিয়েছেন যে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত সৈকতকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে সমুদ্র থেকে কোনোভাবেই অবৈধভাবে বালু তুলতে দেওয়া হবে না এবং সৈকতের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযান চালিয়ে এই অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত জোরালো নজরদারি, ঝুঁকিপূর্ণ ও চোরাবালিযুক্ত স্থানগুলোতে স্থায়ী সতর্কবার্তা টাঙানো এবং সৈকত রক্ষায় কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে অমূল্য প্রাণহানির এই সিলসিলা চিরতরে বন্ধ করা যায়।


ঢাকা ফাইলস ভেরিফাইড এডিটর

ঢাকা ফাইলসের প্রতিটি সংবাদ সম্পাদকীয় নীতি ও যাচাই প্রক্রিয়া মেনে প্রকাশ করা হয়। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি পড়ুন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
1

আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক জোনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য

2

বিশ্বকাপজয়ী দলকে কেন আসল ট্রফির বদলে নকল ট্রফি দেওয়া হয়?

3

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ: সুশীল সমাজ ও সমালোচকদের কড়া বার্তা

4

বাঙালি কত প্রকার? সমাজ ও ভণ্ডামির ব্যবচ্ছেদ

5

‘উসকানির জবাব দেওয়া হবে’: সৌদি আরবকে ইয়েমেনের কঠোর হুঁশিয়ারি

6

শ্রীলঙ্কার কাছে বড় হারে এশিয়ান গেমস থেকে পদকহীন ফিরছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

7

স্বপ্ন-এর ৪১০ জিবি ডাটা ডার্ক ওয়েবে ফাঁস: ৪০ লাখ গ্রাহক চরম ঝুঁকিতে

8

হরমুজ সংকট নিরসনে মঙ্গলবার কাতারে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

9

চট্টগ্রামে ৩৫০ বছরের পুরোনো মসজিদ পুনর্নির্মাণের নির্দেশ আদালতের

10

রিটার্ন ছাড়া নামজারি নয়, সঞ্চয়পত্রে নতুন নিয়ম