দীর্ঘদিন পর নিজের চিরচেনা বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মাঠে ফিরে আবারও বক্স অফিসে জাদু দেখালেন বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল ও প্রভাবশালী মার্কিন নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গ। তার নতুন সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্র ‘ডিসক্লোজার ডে’ মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই বক্স অফিসে দারুণ বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছে। ভিনগ্রহবাসীর অস্তিত্ব বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করার এক রোমাঞ্চকর অভিযানের গল্প নিয়ে তৈরি এই সিনেমাটি প্রথম সপ্তাহান্তেই স্পিলবার্গের ক্যারিয়ারে নতুন রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে। সিনেমাটির এই অভাবনীয় সাফল্যকে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা স্পিলবার্গের এক দুর্দান্ত বাণিজ্যিক প্রত্যাবর্তন হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
‘ডিসক্লোজার ডে’ সিনেমাটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই স্পিলবার্গের আগের কিছু সিনেমার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে:
যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে ছবিটি সাড়াজাগানো চার কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় করেছে। এই বিপুল পরিমাণ আয় স্পিলবার্গ পরিচালিত যেকোনো মৌলিক গল্পভিত্তিক সিনেমার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উদ্বোধনী বা ওপেনিং আয়।
যদিও স্পিলবার্গ পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ডটি এখনো ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য কিংডম অব দ্য ক্রিস্টাল স্কাল’ সিনেমার দখলে রয়েছে, যা মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ১০ কোটি ডলার আয় করেছিল।
তার সাম্প্রতিক মুক্তিপ্রাপ্ত দুই সিনেমা ‘দ্য ফ্যাবলম্যানস’ এবং ‘ওয়েস্ট সাইড স্টোরি’ সমালোচকদের কাছ থেকে প্রচুর প্রশংসা কুড়ালেও বক্স অফিসে আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রে এই সিনেমা দুটি চার কোটি ডলারের গণ্ডিও পার হতে পারেনি। সেই তুলনায় ‘ডিসক্লোজার ডে’ মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই সেই পুরো অঙ্ককে ছাড়িয়ে গিয়ে বাণিজ্যিক সফলতার মুখ দেখেছে। এটি ‘দ্য বিএফজি’ সিনেমার পর স্পিলবার্গের প্রথম কোনো বড় গ্রীষ্মকালীন বা সামার রিলিজ।
‘ডিসক্লোজার ডে’ সিনেমার মূল বিষয়বস্তু গড়ে উঠেছে মহাবিশ্বে এলিয়েন বা ভিনগ্রহবাসীর উপস্থিতি এবং তা পৃথিবীর মানুষের সামনে উন্মোচন করার এক টানটান উত্তেজনাকর অভিযানকে কেন্দ্র করে। ভিনগ্রহের অজানা জগতের প্রতি স্পিলবার্গের এই আকর্ষণ অবশ্য নতুন নয়, এর আগে তিনি ‘ই টি দি এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল’ এবং ‘ক্লোজ এনকাউন্টারস অব দ্য থার্ড কাইন্ড’-এর মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন। নতুন এই চলচ্চিত্রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন এমিলি ব্লান্ট, জশ ও’কনস, কোলম্যান ডমিঙ্গো এবং কলিন ফার্থের মতো জনপ্রিয় একঝাঁক তারকা।
চলচ্চিত্রটির প্রচারণার সময় স্পিলবার্গ এক সাক্ষাৎকারে জানান যে, তিনি ‘ডিসক্লোজার ডে’কে স্রেফ একটি কল্পবিজ্ঞান চলচ্চিত্র হিসেবে দেখতে নারাজ। তার মতে, একবিংশ শতাব্দীতে এসে আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষ এখন যেকোনো বিষয়ের অনেক বেশি দৃশ্যমান প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারছে।
আমাদের হাতে থাকা বর্তমান প্রযুক্তি এমন সব অজানাকে সামনে এনেছে যা আগে মানুষের কল্পনার অংশ ছিল। প্রযুক্তির এই অগ্রগতির কারণেই মহাবিশ্বে মানুষ যে একা নয় এই বিশ্বাসটি স্পিলবার্গের মনে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরালো ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
হলিউড সিনেমার আধুনিক রূপকার এবং ‘ব্লকবাস্টার’ চলচ্চিত্রের পথপ্রদর্শক স্টিভেন স্পিলবার্গ তার দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনটি একাডেমি পুরস্কার বা অস্কার লাভ করেছেন। ‘ডিসক্লোজার ডে’ সিনেমার ব্যাপক সাফল্যের পর তার পরবর্তী কাজ নিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শকমহলে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। যদিও তিনি এখনো পরবর্তী সিনেমার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি, তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্পিলবার্গ জানিয়েছেন যে তিনি তার বহুদিনের লালিত স্বপ্নের একটি 'ওয়েস্টার্ন' ঘরানার সিনেমা নিয়ে বর্তমানে কাজ করছেন।
মন্তব্য করুন