ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদ আর আগুনের কুণ্ডলীতে পরিণত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৩৩২ ছাড়িয়ে গেছে এবং তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই ভয়াবহ সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ এর আওতায় তাদের ২৭তম দফা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে তারা প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক কঠিন জ্বালানিচালিত ‘খেইবার-শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের হাইফা শহরের সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও তেল শোধনাগারে আঘাত হানার দাবি করেছে। পাশাপাশি জর্ডানের ‘মেরিনা’ এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোও ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ইরানকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’-এর বার্তা দিয়েছেন এবং হোয়াইট হাউস দাবি করেছে যে আগামী ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের আকাশসীমা পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতেও ধস নামার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার ছাড়িয়েছে। তেলের এই আকাশচুম্বী দাম এবং সরবরাহ ঘাটতির ফলে কাতার ও ওমানের মতো দেশগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে যুদ্ধের আঁচ লেবাননেও ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে ইসরায়েলি হামলায় গত কয়েক দিনে ২১৭ জন নিহত এবং ৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে টেলিফোনে আলাপচারিতার মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন যে পরিস্থিতি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়ছে যেখানে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যদিও হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আগেই ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। সামগ্রিকভাবে ২০২৬ সালের এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মন্তব্য করুন