ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের অন্যতম আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সিয়াটলে নিজেদের ম্যাচগুলোর জন্য ইরানি ফুটবল দলের ওপর আরোপিত কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। এই বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে ইরানি দল ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানানোর হুমকি দিলেও স্বাগতিক দেশের শীর্ষ টুর্নামেন্ট কর্মকর্তা এই সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রয়টার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টুর্নামেন্টের জন্য গঠিত হোয়াইট হাউস টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরান দলের ভ্রমণ ব্যবস্থার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে থাকবে, তবে আপাতত তাদের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনাই বহাল থাকছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কঠোর নিয়ম অনুযায়ী ইরানি ফুটবল দলের ওপর বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে:
ভেন্যুতে প্রবেশের সময়সীমা: মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, ইরানি দল কেবল ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগে ভেন্যুতে প্রবেশ করতে পারবে।
ম্যাচ শেষে তাৎক্ষণিক প্রত্যাবর্তন: ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই তাদের সরাসরি মেক্সিকোর টিজুয়ানায় অবস্থিত মূল অনুশীলন ক্যাম্পে ফিরে যেতে হবে।
বিশ্রামের সুযোগের অভাব: গত সপ্তাহে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচটি স্থানীয় সময় রাত ৮টায় শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরানি প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য করা হয়। ফলে খেলোয়াড়েরা হোটেলে ন্যূনতম এক রাত বিশ্রামের সুযোগও পাননি।
এই নিয়মে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে ইরানের কোচ আমির ঘালিনোই তাঁর দলকে বর্তমান বিশ্বকাপের ‘সবচেয়ে নিপীড়িত দল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। প্রথম ম্যাচের পর বডি রিকভারির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে দল অন্তত ক্যালিফোর্নিয়ায় এক রাত কাটানোর আশা করেছিল বলে তিনি জানান।
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি প্রথম ম্যাচের পর ইরানের উইঙ্গার মেহেদি তোরাবির এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। তবে গত মঙ্গলবার বিকালে দলীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, তারা তোরাবির জন্য একটি নতুন মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা সংগ্রহ করতে পেরেছেন, যার ফলে তাঁর পরবর্তী ম্যাচগুলো খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে আর কোনো বাধা নেই। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও এক বিবৃতিতে এই সমস্যার সমাধানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
রোববার (২১ জুন) বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ইরানের দ্বিতীয় ম্যাচের জন্যও একই ভ্রমণ প্রোটোকল বহাল থাকছে। ম্যাচ শুরুর প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগে শনিবার (২০ জুন) ইরানি দল লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছেছে। তবে টাস্ক ফোর্সের পরিচালক জুলিয়ানি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল। রোববার বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর তারা টিজুয়ানার উদ্দেশ্যে ২৭ মিনিটের ফিরতি ফ্লাইট ধরবে। এই ম্যাচটি কেমন যায় তা দেখে আগামী শুক্রবার (২৬ ২৬ জুন) সিয়াটলে মিশরের বিরুদ্ধে ইরানের তৃতীয় ম্যাচের নিরাপত্তা ও ভ্রমণ ব্যবস্থা কেমন হবে, তা পরে নির্ধারণ করা হবে।
মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার পক্ষে যুক্তি দিয়ে জুলিয়ানি আরও স্পষ্ট করেন যে, সব খেলোয়াড় এবং কোচ ভিসা পেলেও কয়েকজন কর্মকর্তার বিষয়ে আপত্তিকর তথ্য পাওয়ায় তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি। মূলত নিরাপত্তা ও আতিথেয়তার ভারসাম্য বজায় রাখতেই মার্কিন প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
মন্তব্য করুন