তথ্য ফাঁস হলে ‘ইন্সপেক্টরকে গাছের সঙ্গে ঝুলায় পিটাবো’—এমন অত্যন্ত বিতর্কিত ও বেফাঁস মন্তব্য করার দায়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট শাখার এক পরিপত্রে এই আদেশ জারি করা হয়। পরিপত্রে তাঁকে ২১ জুনের মধ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে সশরীরে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র মারফত জানা যায়, গত ১৬ জুন খুলনা নগরীর লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে পুলিশ। ওই সভায় উপস্থিত স্থানীয়রা অভিযোগ তোলেন যে, গত দুই বছরে খুলনায় একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যার ফলে ৮৯ জন নিহত এবং গুলি ও কুপিয়ে জখম করার শতাধিক ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছে লবণচরা থানা এলাকাতেই। অপরাধপ্রবণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও আতঙ্কের কারণে অনেকেই থানায় অভিযোগ করতে চান না এবং পুলিশ অভিযান চালালেও অপরাধীরা ধরা পড়ে না বলে তারা জানান।
উক্ত সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা স্থানীয়দের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানালে কয়েকজন বাসিন্দা উলটো অভিযোগ করেন যে, পুলিশকে তথ্য দিলে তা পুলিশ থেকেই ফাঁস হয়ে যায়। তাই তারা আগে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিজেদের আচরণ ও কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেন। স্থানীয়দের এই অভিযোগের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘দারোগা বা ইন্সপেক্টরকে বলার পর কোনো তথ্য যদি ফাঁস হয়, আমি মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি, আমি ইন্সপেক্টরকে ঝুলায় দেব। আপনারা পিটায় মারবেন। আপনারা গোপন তথ্য দেবেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলে আমি কথা দিচ্ছি গাছের সঙ্গে ঝুলায় পিটাবো।’
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মুখ থেকে অধীনস্থ কর্মচারীদের প্রতি এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য আসার পর বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যৌথভাবে একটি কড়া বিবৃতি প্রদান করেন। বিবৃতিতে তাঁরা উল্লেখ করেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তাদের বক্তব্যে সর্বদা পেশাদারিত্ব, সংযম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা বাঞ্ছনীয়। জনসম্মুখে প্রদত্ত যেকোনো বক্তব্য এমন হওয়া উচিত, যা বাহিনীর মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও জনগণের আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করে। ভবিষ্যতে সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা, সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, পেশাদারত্ব ও ইতিবাচক কর্মপরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
মন্তব্য করুন