ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘বি’-এর ম্যাচে ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে এক অবিশ্বাস্য ফুটবল রোমাঞ্চের সাক্ষী হলো বিশ্ববাসী। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিল উত্তেজনা। প্রথমার্ধে সুইজারল্যান্ডের দুর্দান্ত লিড এবং ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ৯০ মিনিট পেরিয়ে এক্সট্রা টাইমে (ইঞ্জুরি টাইম) কাতারের নাটকীয় কামব্যাক ফুটবল ভক্তদের স্তব্ধ করে দিয়েছে। হারতে বসা ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতায় শেষ হওয়ায় দুই দলই ১টি করে পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে।
প্রথমার্ধে সুইজারল্যান্ডের আধিপত্য ও প্রথম গোল ম্যাচের শুরু থেকেই বল পজিশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে মাঝমাঠের দখল নেয় ইউরোপের শক্তিশালী দল সুইজারল্যান্ড। তাদের অধিনায়ক গ্রানিট জাকা মাঝমাঠ থেকে নিখুঁত পাসিংয়ের মাধ্যমে কাতারের ডিফেন্সকে ব্যস্ত রাখেন। ম্যাচের প্রথমার্ধেই দারুণ এক আক্রমণ থেকে কাতারের রক্ষণভাগ ভেঙে প্রথম গোলটি আদায় করে নেয় সুইজারল্যান্ড। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে সুইসরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে শক্ত করে ধরে রাখে।
দ্বিতীয়ার্ধে কাতারের প্রতিরোধ ও চরম উত্তেজনা ১ গোলে পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন কাতার। কাতারের তারকা ফরোয়ার্ড আকরাম আফিফ তাঁর গতি ও চতুর ড্রিবলিং স্কিল দিয়ে সুইস ডিফেন্সে একের পর এক ফাটল ধরাতে শুরু করেন। তবে সুইজারল্যান্ডের জমাট ডিফেন্স ও ফিজিক্যাল ট্যাকলের সামনে বারবার আটকে যাচ্ছিল কাতারের আক্রমণগুলো। সময় যত গড়াচ্ছিল, কাতারের পরাজয় ততই স্পষ্ট মনে হচ্ছিল।
৯০ মিনিট শেষের এক্সট্রা টাইমে কাতারের নাটকীয় গোল নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত সুইজারল্যান্ড ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল এবং জয়ের সুবাতাস পাচ্ছিল। কিন্তু রেফারির দেওয়া এক্সট্রা টাইমে (ইনজুরি টাইম) ম্যাচের ভাগ্য বদলে যায়। গোল শোধে মরিয়া কাতার অল-আউট অ্যাটাকে যায়। অতিরিক্ত সময়ের ঠিক শেষ মুহূর্তে সুইস পেনাল্টি বক্সের ভেতর তৈরি হওয়া এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে বল জালে জড়িয়ে দেয় কাতার। স্টেডিয়ামের বিশাল LED স্কোরবোর্ডে যখন ১-১ সমতা লেখা ওঠে, তখন কাতারের গ্যালারিতে উল্লাসের জোয়ার বয়ে যায়। এই নাটকীয় গোলের পর পরই রেফারি শেষ বাঁশি বাজান এবং ম্যাচটি ১-১ ড্রয়ে রূপ নেয়।
মন্তব্য করুন