বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা, জলবায়ু ঝুঁকি এবং বিশ্ব বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তনের মধ্যেও বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার ধরে রাখতে এবং তা সম্প্রসারিত করতে আরও কঠোর প্রতিযোগিতায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। শনিবার (১৩ জুন) রাজধানী ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে আয়োজিত ‘রোডম্যাপ টু ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি কনফারেন্স’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই মন্তব্য করেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের নব-নির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমান জানান, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধির মন্থরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য মূলধন সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে; যেখানে উন্নত দেশগুলো মাত্র ১ থেকে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পায়, সেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ৬ থেকে ১২ শতাংশ বা তারও বেশি সুদ গুনতে হচ্ছে। একই সাথে চলমান জ্বালানি সংকট উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে উল্লেখ করে তিনি দূরদর্শী অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলোকে সুযোগে রূপান্তরের তাগিদ দেন।
সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিয়েছে যখন বিশ্ব অর্থনীতি নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কৌশলগত ভিশন মূলত তিনটি লক্ষ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ‘স্থিতিশীলতা, সংস্কার এবং অগ্রগতি’। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে বদলে দেওয়া উদীয়মান প্রযুক্তি যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) এবং ব্লকচেইনের মতো ‘ট্রেড টেক’ উপাদানগুলোকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন তিনি। ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, সরকার ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ সব শিল্পের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তা, স্বচ্ছতা ও সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বিদেশের দূতাবাসগুলোকে বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন করে সাজানো হচ্ছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনটি বিশেষ সেশনের মাধ্যমে এই সম্মেলন সরকারের নীতিনির্ধারণের সাথে বাস্তবায়নের সম্পর্ককে আরও জোরালো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে মজবুত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
মন্তব্য করুন