দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jun 6, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের ৩৯ দেশের অভিবাসনবিরোধী নীতি অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করল মার্কিন আদালত

০ শেয়ার
ট্রাম্পের ৩৯ দেশের অভিবাসনবিরোধী নীতি অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করল মার্কিন আদালত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের ৩৯টি দেশের নাগরিকদের ওপর আরোপিত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত ও বৈষম্যমূলক অভিবাসন নীতিকে সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করেছেন মার্কিন ফেডারেল আদালত।

সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া অত্যন্ত বিতর্কিত ও বৈষম্যমূলক কিছু অভিবাসন নীতিকে সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করে দিয়েছেন।
  • ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর নীতির মূল লক্ষ্য ছিল এশীয়, আফ্রিকান, ল্যাটিন আমেরিকান এবং মধ্যপ্রাচ্যের ৩৯টি দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয়, কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট, গ্রিন কার্ড এবং মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদনগুলোকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে রাখা।
  • আদালতের এই যুগান্তকারী রায়ের ফলে দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর জন্য এক স্বস্তির বার্তা মিলল।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া অত্যন্ত বিতর্কিত ও বৈষম্যমূলক কিছু অভিবাসন নীতিকে সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করে দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর নীতির মূল লক্ষ্য ছিল এশীয়, আফ্রিকান, ল্যাটিন আমেরিকান এবং মধ্যপ্রাচ্যের ৩৯টি দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয়, কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট, গ্রিন কার্ড এবং মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদনগুলোকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে রাখা। আদালতের এই যুগান্তকারী রায়ের ফলে দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর জন্য এক স্বস্তির বার্তা মিলল। রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্সের চিফ ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ জন ম্যাককনেল শুক্রবার এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) যেসব বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করেছিল, তা লাখ লাখ মানুষকে এক চরম আইনি গোলকধাঁধায় ফেলে দিয়েছে।

সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক নিযুক্ত এই বিচারক তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মার্কিন কংগ্রেসের আইন মেনে অভিবাসীরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করা সত্ত্বেও ইউএসসিআইএস মাসের পর মাস ধরে তাদের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কোনো সংবিধিবদ্ধ বা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই শুধুমাত্র অভিবাসনবিরোধী মনোভাব থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছিল, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং মার্কিন বিচার ব্যবস্থায় নিষিদ্ধ। বিচারক ম্যাককনেল আরও যোগ করেন, এই হাজার হাজার আবেদন আটকে থাকার পেছনে আবেদনকারীদের নিজস্ব কোনো ভুল বা ত্রুটি ছিল না। বরং তাদের জন্মস্থান কোন দেশে কেবলমাত্র সেই জাতিগত পরিচয়ের কারণেই তাদের এই চরম ভোগান্তি ও বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে, যা মার্কিন সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী।

চলতি বছরের মার্চ মাসে বেশ কিছু অভিবাসী সেবা সংস্থা এবং শ্রমিক ইউনিয়ন ট্রাম্প প্রশাসনের এই বৈষম্যমূলক আদেশের বিরুদ্ধে যৌথভাবে একটি মামলা দায়ের করে, যার চূড়ান্ত রায়ে আজ অভিবাসীদের পক্ষে এই বড় বিজয় এল। মামলার বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী লিবারেল লিগ্যাল গ্রুপ ‘ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ড’-এর প্রধান স্কাই পেরিমান এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আদালত একটি মৌলিক আইনি নীতি পুনরায় প্রমাণ করেছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলেই কোনো বৈধ অভিবাসনের পথ বন্ধ করতে পারে না এবং মানুষের জন্মস্থানের ওপর ভিত্তি করে কোনো বৈষম্য করতে পারে না। তবে আদালতের এই কঠোর রায়ের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে নিয়োজিত ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি করার একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেয়। ওই হামলার পেছনে একজন আফগান অভিবাসী জড়িত ছিলেন বলে সরকারি প্রসিকিউটররা দাবি করলেও, অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে ওই ঘটনার পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দেন যে, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে তিনি সাময়িকভাবে নির্দিষ্ট কিছু দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখবেন। এরই ধারাবাহিকতায় আফগানিস্তান, ইরান, হাইতি, সোমালিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং সিরিয়াসহ মোট ৩৯টি দেশের ওপর কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও আইনি স্থবিরতা জারি করা হয়েছিল। আদালত চূড়ান্ত রায়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের তৈরি মূল অভিবাসন আইন এবং প্রশাসনিক আইন উভয়েরই চরম লঙ্ঘন এবং আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

ঢাকা ফাইলস ভেরিফাইড এডিটর

ঢাকা ফাইলসের প্রতিটি সংবাদ সম্পাদকীয় নীতি ও যাচাই প্রক্রিয়া মেনে প্রকাশ করা হয়। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি পড়ুন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
1

জেলেদের চাল আত্মসাতের অভিযোগ: ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা

2

সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার অনলাইন আবেদনের সময় বাড়ল ৩১ আগস্ট পর্যন্ত

3

পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের বড় সুখবর

4

নীলফামারীতে ভিসা প্রতারণার সরঞ্জামসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

5

জাল সনদে বিসিএস ক্যাডার: দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা

6

১৬৫ হার্জ রিফ্রেশ রেট ও নতুন ডিজাইনে আসছে আইকিউওও ১৬

7

অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা ইসরাইলের

8

ক্রোয়েশিয়াকে উড়িয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারল ব্রাজিল

9

তিউনিসিয়া উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি: ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ৬

10

জমি নিয়ে বিরোধ ও ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ২০