তেহরানে এক ভয়াবহ মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ। গত শুক্রবারের সেই একই হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার ঠিক দুই দিন পর নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রবিবার এক শোকবার্তায় নিশ্চিত করেছে যে, ওই হামলায় কেবল এই দম্পতিই নন, বরং তাদের কন্যা, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতাও প্রাণ হারিয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন শোকের মূহুর্ত তৈরি করেছে।
মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ এবং আয়াতুল্লাহ খামেনির দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের শুরু হয়েছিল ১৯৬৫ সালে। দীর্ঘ এই পথচলায় তাদের চার ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। খামেনির কয়েক দশকের কঠোর শাসন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়গুলোতে ৭৯ বছর বয়সী বাঘেরজাদেহ সবসময় নিভৃতচারী থেকে তাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন। রাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব বা জনসম্মুখে আসার চেয়ে তিনি পর্দার আড়ালে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। ক্যামেরা এবং রাজনৈতিক আলোচনা থেকে দূরে থাকা এই মহীয়সী নারী খামেনির ব্যক্তিগত জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন।
২০১১ সালে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে বাঘেরজাদেহ তাঁর জীবনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছিলেন। বিশেষ করে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আগে যখন খামেনি ইরানের শাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন, তখন তিনি ঘরে এক শান্ত পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করতেন যাতে খামেনি নির্বিঘ্নে তাঁর কাজ করতে পারেন। তিনি জানিয়েছিলেন, কারাবন্দী খামেনিকে দেখতে গিয়ে তিনি কখনোই পারিবারিক সমস্যার কথা বলতেন না, বরং সবসময় ভালো খবর দিয়ে তাকে আশ্বস্ত করতেন। লিফলেট বিতরণ বা গোপন নথি লুকানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সক্রিয় থাকলেও তিনি বিনম্রভাবে সেগুলোকে তুচ্ছ বলে মনে করতেন।
স্বামীর কর্মব্যস্ততাকে সম্মান জানিয়ে তিনি কখনোই গৃহকাজে তাঁর সহায়তা প্রত্যাশা করেননি। বরং খামেনির একটি গুণের প্রশংসা করে তিনি বলেছিলেন যে, শত ক্লান্তি আর কর্মক্ষেত্রের দুশ্চিন্তা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও খামেনি কখনো সেই চাপ ঘরের ভেতর নিয়ে আসতেন না। ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ আর রাজনৈতিক ঝড়ের মাঝে এই দম্পতি যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন, বাঘেরজাদেহর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে তার একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
মন্তব্য করুন