দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Mar 2, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

তেহরানে বিমান হামলায় খামেনির পর তাঁর স্ত্রীরও মৃত্যু: অবসান হলো এক দীর্ঘ নিভৃত অধ্যায়ের

০ শেয়ার
তেহরানে বিমান হামলায় খামেনির পর তাঁর স্ত্রীরও মৃত্যু: অবসান হলো এক দীর্ঘ নিভৃত অধ্যায়ের

তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার দুই দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তাঁর স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ। একই হামলায় নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারের আরও বেশ কয়েকজন সদস্য।

সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • তেহরানে এক ভয়াবহ মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ।
  • গত শুক্রবারের সেই একই হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার ঠিক দুই দিন পর নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
  • ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রবিবার এক শোকবার্তায় নিশ্চিত করেছে যে, ওই হামলায় কেবল এই দম্পতিই নন, বরং তাদের কন্যা, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতাও প্রাণ হারিয়েছেন।

তেহরানে এক ভয়াবহ মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ। গত শুক্রবারের সেই একই হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার ঠিক দুই দিন পর নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রবিবার এক শোকবার্তায় নিশ্চিত করেছে যে, ওই হামলায় কেবল এই দম্পতিই নন, বরং তাদের কন্যা, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতাও প্রাণ হারিয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন শোকের মূহুর্ত তৈরি করেছে।

মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ এবং আয়াতুল্লাহ খামেনির দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের শুরু হয়েছিল ১৯৬৫ সালে। দীর্ঘ এই পথচলায় তাদের চার ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। খামেনির কয়েক দশকের কঠোর শাসন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়গুলোতে ৭৯ বছর বয়সী বাঘেরজাদেহ সবসময় নিভৃতচারী থেকে তাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন। রাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব বা জনসম্মুখে আসার চেয়ে তিনি পর্দার আড়ালে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। ক্যামেরা এবং রাজনৈতিক আলোচনা থেকে দূরে থাকা এই মহীয়সী নারী খামেনির ব্যক্তিগত জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন।

২০১১ সালে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে বাঘেরজাদেহ তাঁর জীবনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছিলেন। বিশেষ করে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আগে যখন খামেনি ইরানের শাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন, তখন তিনি ঘরে এক শান্ত পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করতেন যাতে খামেনি নির্বিঘ্নে তাঁর কাজ করতে পারেন। তিনি জানিয়েছিলেন, কারাবন্দী খামেনিকে দেখতে গিয়ে তিনি কখনোই পারিবারিক সমস্যার কথা বলতেন না, বরং সবসময় ভালো খবর দিয়ে তাকে আশ্বস্ত করতেন। লিফলেট বিতরণ বা গোপন নথি লুকানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সক্রিয় থাকলেও তিনি বিনম্রভাবে সেগুলোকে তুচ্ছ বলে মনে করতেন।

স্বামীর কর্মব্যস্ততাকে সম্মান জানিয়ে তিনি কখনোই গৃহকাজে তাঁর সহায়তা প্রত্যাশা করেননি। বরং খামেনির একটি গুণের প্রশংসা করে তিনি বলেছিলেন যে, শত ক্লান্তি আর কর্মক্ষেত্রের দুশ্চিন্তা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও খামেনি কখনো সেই চাপ ঘরের ভেতর নিয়ে আসতেন না। ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ আর রাজনৈতিক ঝড়ের মাঝে এই দম্পতি যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন, বাঘেরজাদেহর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে তার একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

ঢাকা ফাইলস ভেরিফাইড এডিটর

ঢাকা ফাইলসের প্রতিটি সংবাদ সম্পাদকীয় নীতি ও যাচাই প্রক্রিয়া মেনে প্রকাশ করা হয়। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি পড়ুন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
1

বিশ্ববাজারে ডলারের দামে ওঠানামা: জ্যাকসন হোল সম্মেলনের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা

2

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: ছিটকে গেলেন নেইমার, ব্রাজিলের বড় ধাক্কা

3

সরকারবিরোধী চক্রান্তে ২ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার, ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

4

ভারত পালাতে গিয়ে গ্রেফতার হলেন হত্যা মামলার আসামি

5

প্রথম ম্যাচে খেলছেন না নেইমার

6

বোকার মুখোমুখি হওয়ার আগে ভাস্কো মিডফিল্ডারের বিস্ফোরক মন্তব্য

7

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ: ফিফার রেকর্ড প্রাইজমানি থেকে সুবিধা পাবে বাংলাদেশও

8

চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল | Weather Update Bangladesh

9

বিমান ও রেলে শুল্ক গোয়েন্দার অভিযান: ১ কোটি টাকার বেশি চোরাচালান পণ্য জব্দ

10

দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত