একটি ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর ম্যাচে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে দারুণ জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। শক্তির বিচারে দুই দলের র্যাঙ্কিংয়ে ব্যবধান থাকলেও, মাঠে আজ দুই দলের লড়াই ছিল সমানে সমানে। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় গোল করে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
প্রথমার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরুতেই বল পজিশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে সান মারিনোর রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা। ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে খেলার প্রথমার্ধেই। ডান প্রান্ত থেকে বাড়ানো একটি চমৎকার ক্রসকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জালে জড়িয়ে বাংলাদেশকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন দলের তারকা স্ট্রাইকার। এই গোলের পর স্টেডিয়ামজুড়ে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশী ও সমর্থকদের মাঝে উল্লাসের জোয়ার বয়ে যায়। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে সান মারিনো। ইউরোপিয়ান এই দলটি কাউন্টার অ্যাটাক ও ফিজিক্যাল ফুটবলের সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের ডিফেন্স লাইনে ফাটল ধরার চেষ্টা করে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে পেনাল্টি অথবা রক্ষণভাগের একটি ছোট ভুলের সুযোগ নিয়ে সান মারিনো গোলটি পরিশোধ করে। ১-১ গোলে সমতা ফেরার পর ম্যাচটি বেশ জমে ওঠে এবং দুই দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় একদম শেষ মুহূর্তে। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন লাল-সবুজের উইঙ্গার। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের এই স্মরণীয় জয়। ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের এমন জয় ফুটবল ভক্তদের দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
মন্তব্য করুন