ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দপ্তর লক্ষ্য করে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই হামলার পরপরই তেহরানের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনও এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে যে, হামলার শুরুতেই খামেনিকে তেহরান ত্যাগ করিয়ে একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সরকারিভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি এবং পুরো বিষয়টি কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে তেহরানের কেন্দ্রস্থল থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে এবং দফায় দফায় বিকট শব্দে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে এক নতুন এবং বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সব পথ বন্ধ করে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই এই সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যদিও এর আগে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংঘাত এড়ানোর জন্য শেষ মুহূর্তের মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বলছে সেই প্রচেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। ইসরায়েল ইতিমধ্যেই তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে এবং সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা জবাব মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সরাসরি হামলার ফলে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। তেহরান থেকে খামেনিকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে ইরান সরকার দীর্ঘমেয়াদী এবং বড় আকারের কোনো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মন্তব্য করুন