রাজনৈতিকভাবে চরম বিভক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখন একটি মাত্র ইস্যুতে সবাই একমত হতে শুরু করেছেন—আর তা হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অনিয়ন্ত্রিত অগ্রযাত্রা রুখে দেওয়া। ডাটা সেন্টারের আগ্রাসন, পরিবেশ দূষণ, ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ বিল এবং কিশোর-কিশোরীদের এআই আসক্তি নিয়ে খোদ আমেরিকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে।
ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডাটা সেন্টার হাব হিসেবে পরিচিত ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে সম্প্রতি এক গির্জায় কয়েকশ রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সমর্থক এআই-এর বিরুদ্ধে একজোট হন। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্য সিনেটর দানিকা রোয়েম সেখানে প্রশ্ন তোলেন, "করপোরেট লোভের কারণে আর কতদিন আমরা আমাদের পরিবেশ ধ্বংস হতে দেখব?"
আকাশচুম্বী বিদ্যুৎ বিল ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা
জর্জিয়ার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য আলিশিয়া জনসন অভিযোগ করেন, ডাটা সেন্টারের বিশাল বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে গিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের পকেট কাটছে বড় কোম্পানিগুলো। অন্যদিকে, টেক্সাসের যাজক মাইকেল গ্রেস্টন এআই চ্যাটবটকে দেখছেন সামাজিক একাকিত্বের ‘অগ্নিকাণ্ড’ হিসেবে। তার মতে, চ্যাটবট তরুণ প্রজন্মকে পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে।
চাকরি হারানো ও ভুল তথ্যের ভয়
হলিউডে অভিনেত্রী জাস্টিন বেটম্যানের নেতৃত্বে এআই-মুক্ত সিনেমা তৈরির আন্দোলন শুরু হয়েছে। শুধু শিল্পী নয়, ওকলাহোমার কৃষক থেকে শুরু করে উত্তর ক্যারোলিনার নার্স হানা ড্রামন্ড পর্যন্ত—সবাই এআই-এর ভুল সিদ্ধান্ত ও কর্মসংস্থান হ্রাসের ভয়ে আতঙ্কিত। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে:
৭২ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন এআই ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।
৬৬ শতাংশ মনে করেন এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট করছে।
৫৮ শতাংশ এআই-এর কারণে চাকরি হারানোর শঙ্কায় আছেন।
প্রত্যাখ্যানের শুরু
উইসকনসিনের গভর্নর পদপ্রার্থী ফ্রান্সেসকা হং তার প্রচারণায় ডাটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি গুগলের সাবেক গবেষক জন পালোউইচও প্রতিষ্ঠানটির জেমিনি (Gemini) প্রজেক্ট থেকে পদত্যাগ করে এখন প্রযুক্তির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়ছেন।
সিলিকন ভ্যালি কোটি কোটি ডলার খরচ করে এআই-এর পক্ষে প্রচারণা চালালেও, আমেরিকার সাধারণ মানুষ এখন সংগঠিত হচ্ছে যন্ত্রের হাত থেকে মানুষের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে।