যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বর্তমানে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতি ও কার্যপদ্ধতির বিরুদ্ধে লাখো মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন। 'নো কিংস' বা 'আমাদের কোনো রাজা নেই' স্লোগানকে সামনে রেখে দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের তিন হাজারেরও বেশি শহরে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আয়োজকদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক দিনে ঘটা বৃহত্তম অহিংস প্রতিবাদ। বিশেষ করে বিচার বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোতে আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে ট্রাম্প নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ তুলেছেন। এই গণজোয়ারের মূল উদ্যোক্তা 'ইন্ডিভিজিবল' প্ল্যাটফর্ম হলেও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অসংখ্য প্রগতিশীল ও নাগরিক অধিকার রক্ষা সংগঠন।
এবারের বিক্ষোভের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের বিরোধিতা। বিক্ষোভকারীরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক সংশ্লিষ্টতা কেবল আন্তর্জাতিক সংকটই বাড়াচ্ছে না, বরং সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এবার কেবল বড় শহরগুলোতেই নয়, বরং আইডাহো বা ইউটাহর মতো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছোট শহরগুলোতেও সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। যদিও হোয়াইট হাউস এই বিক্ষোভকে 'মানসিক উন্মাদনা' বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করছেন আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই গণবিক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকেও এই আন্দোলনের প্রতি জোরালো সমর্থন আসছে। অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জেন ফন্ডার নেতৃত্বে ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারের সামনে জড়ো হয়ে শিল্পী, সাংবাদিক ও লেখকেরা বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে 'ফ্যাসিবাদী' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকার ইতিহাস বিকৃত করছে এবং শিল্প ও গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। জেন ফন্ডা ও জোয়ান বায়েজের মতো কিংবদন্তিরা সরাসরি বিক্ষোভে যোগ দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় ভেঙে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানেও এই যুদ্ধের প্রতিবাদে এবং সরকারের সমর্থনে মিছিল হয়েছে, যদিও সেখানে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পশ্চিমা বিশ্ব।
মন্তব্য করুন