যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরম সীমায় পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে ইরানকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আগামী ৬ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখের মধ্যে যদি কোনো সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছানো না যায় বা হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া না হয়, তবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হবে।
ট্রাম্পের এই হুমকির মূল লক্ষ্যবস্তু হলো ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলক্ষেত্র এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খার্ক দ্বীপ। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, বর্তমানে ইরানের একটি ‘নতুন ও যুক্তিসঙ্গত’ নেতৃত্বের সাথে আলোচনা চলছে এবং এতে অগ্রগতি হচ্ছে। তবে ইরান সরাসরি আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, তারা শুধুমাত্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তাদের দাবিদাওয়া পেশ করছে।
| বিষয় | যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব/শর্ত | ইরানের পাল্টা দাবি/শর্ত |
| পারমাণবিক কর্মসূচি | ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামানো ও স্থাপনা ভেঙে ফেলা। | হামলা বন্ধ এবং ভবিষ্যতে আক্রমণের নিশ্চয়তা। |
| ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি | ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ও পাল্লা সীমিত করা। | মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান। |
| হরমুজ প্রণালি | আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অবিলম্বে উন্মুক্ত করা। | প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি। |
| নিষেধাজ্ঞা | শর্ত সাপেক্ষে আংশিক শিথিলকরণ। | সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার। |
১. ৬ এপ্রিলের ডেডলাইন: ট্রাম্পের দেওয়া এই ১০ দিনের আলটিমেটাম (৩১ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল) বিশ্ব বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। চুক্তি না হলে খার্ক দ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
২. জ্বালানি সংকট: হরমুজ প্রণালি আংশিক বন্ধ থাকায় ইতিমধ্যেই অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হামলা শুরু হলে দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
৩. মানবিক বিপর্যয়: বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা হলে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়বে, যা এক বড় ধরনের মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন