রায় জালিয়াতি ও দুর্নীতির পৃথক ৪টি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। ২০২৫ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।
দুর্নীতি ও রায় জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক পৃথক চারটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। বুধবার (১১ মার্চ, ২০২৬) আদালত সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে গত বছরের ২৬ অক্টোবর তার জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেছিলেন আদালত, যার ধারাবাহিকতায় আজ এই আদেশ এলো। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অপর একটি মামলায় তার জামিনের বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার আমলেই সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার ঐতিহাসিক ও বিতর্কিত রায়টি প্রদান করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আনা রায় জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলে আসছে।
হাইকোর্টের এই জামিন আদেশের পর তার কারামুক্তির পথ অনেকাংশে প্রশস্ত হলো বলে ধারণা করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা। তবে রাষ্ট্রপক্ষ বা দুদক এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খায়রুল হকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই এই জামিন আবেদন করা হয়েছিল এবং আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে আজ এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাবেক এই প্রধান বিচারপতির মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।