কিয়েভ: ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারকিভ এলাকায় রাশিয়ার সামরিক বাহিনী নতুন করে এক ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোরের দিকে চালানো এই আকস্মিক ও শক্তিশালী হামলায় এক তরুণীসহ অন্তত চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই রক্তক্ষয়ী হামলার তথ্য জানানো হয়েছে।
খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেগ সিনেগুবভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, রুশ ড্রোন বাহিনী খারকিভের জনবহুল চুগুইভ শহরকে লক্ষ্য করে এই তীব্র হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই ২২ বছর বয়সি এক তরুণীসহ চারজন নিরীহ নাগরিক প্রাণ হারান। গভর্নর আরও বলেন, রাশিয়ার এই আত্মঘাতী ড্রোন হামলার পর শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। হামলায় অন্তত ১৮টি ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন সম্পূর্ণ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিস্ফোরণের তীব্রতায় বহুতল আবাসিক ভবনগুলোর জানালার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে এবং ভবনগুলোর বাইরের অংশ ও কাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে খারকিভ শহরের মেয়র ইগর তেরেখভ গণমাধ্যমকে জানান, চুগুইভের পাশাপাশি খারকিভ মূল শহরেও পৃথক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। শহরের সেই পৃথক হামলায় অন্তত ২০ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের বিভিন্ন বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার বিমান হামলা ও ড্রোন হামলার তীব্রতা এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ক্রেমলিনের এই আগ্রাসী ভূমিকার জবাবে ইউক্রেনীয় বাহিনীও পাল্টা রণকৌশল হিসেবে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের ভেতরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। কিয়েভ প্রশাসনের দাবি, তারা রাশিয়ার যুদ্ধ সক্ষমতা কমিয়ে দিতে মূলত তাদের সামরিক ঘাঁটি ও তেল শোধনাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই পাল্টা হামলাগুলো পরিচালনা করছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ইউক্রেন-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে অন্তত ১৫ হাজার ৮৫০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর বাইরে রাশিয়ার সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন ইউক্রেনীয় এলাকাগুলোতে আরও দুই হাজার ৮০০ জনেরও বেশি বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর নির্মম তথ্য নথিভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। বিশ্ব সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেন ও রাশিয়া-অধিকৃত উভয় অঞ্চলে চলমান এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ গুরুতর আহত বা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
মন্তব্য করুন