সাফল্য এবং অনুপ্রেরণা অনেক সময় শৈশবের হিরোদের হাত ধরেই আসে, আর অভিনেতা ও নির্মাতা জিয়াউল হক পলাশের জন্য সেই ধ্রুবতারা ছিলেন প্রখ্যাত নির্মাতা ইফতেখার আহমেদ ফাহমি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পলাশ তার জীবনের এক আবেগঘন মুহূর্তের কথা শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি প্রায় দুই দশক ধরে মনে লালন করা এক মানুষের সঙ্গে একটি সন্ধ্যা কাটানোর গল্প শুনিয়েছেন। পলাশের কাছে এই সাক্ষাৎ কেবল একটি সাধারণ আড্ডা ছিল না; এটি ছিল ২০০৭ সাল থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ ১৯ বছরের এক অপেক্ষার অবসান। ফাহমির নির্মাণশৈলী আর গল্পের জাদুতে মুগ্ধ হয়েই একদিন পলাশ স্বপ্ন দেখেছিলেন পরিচালক হওয়ার।
এই মুগ্ধতার শিকড় কতটা গভীরে ছিল, তা পলাশের স্মৃতিচারণেই স্পষ্ট। কৈশোরে তিনি ফাহমির ছবি মানিব্যাগে রাখতেন, পড়ার টেবিলের সামনে টাঙিয়ে রাখতেন নিয়মিত অনুপ্রেরণার জন্য। নাখালপাড়ায় জনপ্রিয় ধারাবাহিক 'ফোর টোয়েন্টি'-র শুটিং চলাকালীন প্রথমবারের মতো ফাহমিকে নির্দেশনা দিতে দেখে পরিচালক হওয়ার ইচ্ছাটা তার মনে স্থায়ীভাবে গেঁথে যায়। এমনকি কাজল আরেফিন অমির সহকারী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করার পেছনেও পলাশের বড় একটা তাড়না ছিল যে, অমি নিজে এক সময় ফাহমির সহকারী ছিলেন। অমির প্রতিটি সিন ব্রিফিংয়ের মাঝে পলাশ খুঁজে ফিরতেন তার প্রিয় নির্মাতার ছায়া।
সম্প্রতি সেই বহু প্রতীক্ষিত আড্ডার সময়টা পলাশের কাছে অনেকটা 'ঘোর লাগা' সময়ের মতো ছিল। দুই প্রজন্মের এই দুই নির্মাতা কথা বলেছেন পলাশের সাম্প্রতিক কাজ 'সন্ধ্যা ৭টা' নিয়ে। ফাহমি তাকে নিয়মিত পরিচালনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যা পলাশের জন্য ছিল এক পরম পাওয়া। ১৯ বছর ধরে জমানো হাজারো কথা মনে থাকলেও প্রিয় মানুষের সামনে গিয়ে পলাশ যেন অনেকটা নির্বাক হয়ে গিয়েছিলেন। এই ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয় যে, একজন প্রতিষ্ঠিত তারকা হওয়ার পরও ভক্তের হৃদয়টা আসলে আগের মতোই থেকে যায়, আর অনুপ্রেরণার মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ জীবনের এক পূর্ণতা এনে দেয়।
মন্তব্য করুন