ভূমিকম্প নয়, বরং তুষারধসের কারণেই নেপালের ভোটেকোশী নদীতে নেমে এসেছিল ভয়ংকর হড়পা বান। আমেরিকার ভূতত্ত্ব পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা (ইউএসজিএস) এবং উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। হিমালয়ের অন্যতম পর্বতশৃঙ্গ ল্যাংট্যাং লিরুঙের নিকটবর্তী ৫১২৭ মিটার উচ্চতা থেকে হিমবাহের একটি অংশ ভেঙে পড়ার পরই এই বিপর্যয় ঘটে। ঢালু পথ বেয়ে কয়েকশো মিটার উচ্চতা থেকে তুষার ও কাদামাটি দুই পর্বতের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ উপত্যকায় আছড়ে পড়ে।
চিনের ভূতত্ত্ববিদ গুয়ো জ়াওচেং জানিয়েছেন, তুষার এবং কাদা-পাথরের ওই স্রোত প্রতি সেকেন্ডে ৫০ মিটার বা ১৬৫ ফুট দূরত্ব অতিক্রম করেছিল। চোখের পলকে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা এই স্রোতের নিচে চাপা পড়ে যায়। লিন্দেখোলা নদী হয়ে এই রাক্ষুসে স্রোত তিব্বতের গিরং বন্দর এবং পরে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীর খাত ধরে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নেপাল-ভারত সীমান্ত পর্যন্ত নেমে আসে। তিমুরে, স্যাপ্রুবেসী, হাকুবেসী, বেত্রীবতীর মতো জনপদগুলো সেকেন্ডের মধ্যে কাদা, পাথর ও ঘোলা জলের নিচে তলিয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে দ্রুত গলছে হিমালয়ের হিমবাহগুলো। ১৯৭৫ থেকে ২০০০ সালের তুলনায় ২০০০ সালের পর থেকে হিমবাহ গলার গতি দ্বিগুণ হয়ে গেছে। যার ফলে এই ধরনের আকস্মিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। এদিকে হড়পা বানের জেরে নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন দেড় হাজারের বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাঠমান্ডু।
মন্তব্য করুন