কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আধিপত্য বজায় রাখতে দক্ষিণ কোরিয়া ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিশাল বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার সিউলে প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জাতীয় ব্রিফিংয়ে এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নতুন সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন এবং দেশের এআই অবকাঠামোকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলা।
বিনিয়োগের মূল ক্ষেত্র ও প্রকল্প: শিল্পমন্ত্রী কিম জং-কওয়ান জানিয়েছেন, ‘থ্রি মেগা প্রজেক্টস’ কর্মসূচির আওতায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গোয়াংজু ও জিওল্লা অঞ্চলকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। এতে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্সের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি জায়ান্টদের সাথে সরকার যৌথভাবে বিনিয়োগ করবে। এছাড়া মধ্যাঞ্চলীয় চুংচিয়ং অঞ্চলে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং শিল্প গড়ে তুলতে এবং ডেগু ও উত্তর গিয়ংসাং অঞ্চলে কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ উদ্ভাবন কেন্দ্র স্থাপনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এআই ডেটা সেন্টার ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য: পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে ৮ দশমিক ৪ গিগাওয়াট সক্ষমতার এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণে প্রায় ৩৫৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে, যা ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৮ দশমিক ৪ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। স্যামসাং গ্রুপ ২ দশমিক ৬৫৫ কোয়াড্রিলিয়ন ওন এবং এসকে গ্রুপ ১ দশমিক ১ কোয়াড্রিলিয়ন ওনের পৃথক বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যার একটি বড় অংশ হোনাম অঞ্চলকে নতুন প্রজন্মের সেমিকন্ডাক্টর হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবহৃত হবে।
প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেছেন, সেমিকন্ডাক্টর ও এআই শিল্পে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়া এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। উদীয়মান এআই যুগে দেশটিকে একটি শক্তিশালী শিল্পশক্তিতে পরিণত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সরকারের এই পরিকল্পিত বিনিয়োগ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি খাতকে আগামী কয়েক দশকে বিশ্ববাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি খাতের এই বিশাল বিনিয়োগ বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারে দক্ষিণ কোরিয়াকে কতটা এগিয়ে দেবে বলে আপনি মনে করেন?
মন্তব্য করুন