মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে অবৈধভাবে মাছ শিকারের সুযোগ করে দিতে সরকারি মৎস্য কর্মকর্তা ও যুবদল নেতার ঘুষ লেনদেনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে ফেসবুকে অডিও রেকর্ডটি ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া কল রেকর্ডে সরকারি মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখাকে মৎস্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাফেজ আবদুর রহিমের কাছে মাগরিবের আগেই বাকি টাকা পাঠানোর তাগিদ দিতে শোনা যায়। এমনকি টাকা না দিলে ট্রলারে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। জবাবে মৎস্য ব্যবসায়ী রহিমকে ৪৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে নিজের ট্রলারগুলো নিরাপদে রাখার আকুতি জানাতে শোনা যায়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা সাগরে ও নদীতে মাছ ধরার প্রায় দুই শতাধিক ট্রলারের প্রতিটির কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে নিয়ে অঘোষিতভাবে মাছ শিকারের সুযোগ করে দিতেন। আর এই অর্থ সংগ্রহের অনুঘটক হিসেবে কাজ করতেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা রহিম।
ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলা বিএনপির নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেছেন। ঘটনাটি নজরে আসার কথা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টির সত্যতা তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে, অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত যুবদল নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় যুবদল নেতৃত্ব।