ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সিয়াটল পর্বে ইরান ও মিশরের মধ্যকার ম্যাচটি ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। ঘটনাক্রমে এই ম্যাচটি পড়েছে সিয়াটলের বার্ষিক এলজিবিটিকিউ+ (LGBTQ+) কমিউনিটির প্রাইড উদযাপনের দিন। যেহেতু ইরান ও মিশর উভয় দেশেই সমকামিতা আইনত নিষিদ্ধ এবং এই সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের কঠোর অবস্থানের ইতিহাস রয়েছে, তাই ম্যাচটি ঘিরে দুই দেশই আয়োজক কর্তৃপক্ষের কাছে প্রাইড উদযাপন বাতিল করার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে।
ইরানে সমকামিতা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এই অভিযোগে সেখানে মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর সাজার নজির রয়েছে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে ইরান আগেই তাদের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল, যা ফিফা কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। অন্যদিকে মিশরেও অস্পষ্ট 'অশ্লীলতা' আইনের ভিত্তিতে এলজিবিটিকিউ+ ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও বিচার করার ঘটনা নিয়মিত। প্রাইড দিবসের এই ম্যাচে স্টেডিয়ামের বাইরে রংধনু পতাকার আধিক্য থাকবে, যা এই দুই দেশের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।
সিয়াটলের এই প্রাইড ম্যাচটি একদিকে ফুটবল খেলার লড়াই, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ফিফা কর্তৃপক্ষ এই ম্যাচ নিয়ে যে সময়সূচী ও ভেন্যু নির্ধারণ করেছে, তাতে কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই। ফলে ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের ভেতরে এবং বাইরে যে দৃশ্য তৈরি হবে, তা এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত এবং বিতর্কিত ঘটনা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা বিশ্বমঞ্চে ফুটবলকে রাজনীতির উর্ধ্বে রাখার কথা বললেও, এই ম্যাচটি প্রমাণ করছে যে বিভিন্ন দেশের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের সংঘাত ফুটবলের মাঠেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। ম্যাচটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করাই এখন ফিফা এবং স্থানীয় প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন