বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬টি দেশের উৎপাদন খাতের ওপর বিশেষ তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR) জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১(বি)’-এর অধীনে এই তদন্ত পরিচালিত হবে। মূলত এসব দেশের উৎপাদন নীতি এবং ‘কাঠামোগত অতিরিক্ত সক্ষমতা’ মার্কিন বাণিজ্যের জন্য বৈষম্যমূলক বা ক্ষতিকর কি না, তা যাচাই করাই এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য। বুধবার (১১ মার্চ, ২০২৬) ইউএসটিআর-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তদন্তের তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান, মেক্সিকো, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভিয়েতনামের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদাররা। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার কড়া ভাষায় বলেন, “অন্য দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্র নিজের শিল্প সক্ষমতা বিনষ্ট হতে দেবে না।” তার মতে, অনেক দেশ নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি পণ্য উৎপাদন করে তা বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় উৎপাদনকারীদের অসম প্রতিযোগিতার মুখে ফেলছে। এই তদন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শিল্প খাত পুনরুজ্জীবন’ নীতির একটি অংশ, যার লক্ষ্য হলো উৎপাদন ও কর্মসংস্থান যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা।
ইউএসটিআর জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে আগামী ১৭ মার্চ থেকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে তাদের লিখিত মতামত জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যদি তদন্তে প্রমাণ হয় যে কোনো দেশের নীতি মার্কিন বাণিজ্যের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, তবে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ওই দেশের পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ বা অন্যান্য প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে।
মন্তব্য করুন