|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
Dhaka Files
প্রকাশ : Feb 26, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ইরান নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর ‘সীমান্ত রেখা’: জেনেভায় কূটনীতি নাকি রণপ্রস্তুতি?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে ইরান ইস্যু নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ভাষণে তিনি ইরানকে ‘বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাস পৃষ্ঠপোষক’ আখ্যা দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। ট্রাম্পের এই বক্তব্যে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা না থাকলেও, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং তাঁর বাচনভঙ্গি সামরিক পদক্ষেপের একটি সুস্পষ্ট প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে মদত দেওয়া এবং দীর্ঘপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেন, তেহরান এমন সব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষ করে ২০২৩ সালের জুনে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর সাফল্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ইরান আবারও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সক্রিয় করার ‘অশুভ উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ দেখাচ্ছে, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

ইরান অবশ্য শুরু থেকেই এসব অভিযোগকে ‘বড় মিথ্যা’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক জ্বালানি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত। আজ বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিক হয় তবে একটি বড় সংঘাত এড়ানো এবং একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানো এখনও সম্ভব।

ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের পেছনে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ছায়া দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তিনি একদিকে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ সামরিক শক্তি মোতায়েন করে রেখেছেন। সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এই পরিস্থিতিতে সতর্ক করে বলেছেন, যে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অবশ্যই তা নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্ক হওয়া উচিত। গোপন আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরুর ঝুঁকি হ্রাসের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

আগামী কয়েক সপ্তাহ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে জেনেভার কূটনীতি আর অন্যদিকে ট্রাম্পের ‘শান্তি যখন সম্ভব, শক্তি যেখানে প্রয়োজন’ এই দ্বিমুখী কৌশল কোন দিকে মোড় নেয়, তাই এখন দেখার বিষয়। জ্বালানি বাজার থেকে শুরু করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সব কিছুই এখন এই সংকটের চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১

1

দেশে দৈনিক ১,৬৩০ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদন: সরকার গৃহীত নতুন প

2

ভূমিকম্পের দুই ঘণ্টার উৎকণ্ঠার গল্প

3

বাংলাদেশের সামনে ফাইনালের হাতছানি, যা বললেন শান্ত

4

ম্যানচেস্টার সিটি বনাম অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ প্রি-সিজন প্রীতি

5

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল

6

শহীদ পরিবারকে ১ কোটি টাকা সহায়তাসহ সরকারের কাছে ৩ দফা দাবি জ

7

France vs Spain: FIFA World Cup 2026 Semi-final Preview

8

নেইমারকে নিয়ে মন্তব্য করে তোপের মুখে জাপানি তারকা কেন্তো শিও

9

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও কমল: ১ জুলাইয়ের নতুন দর জেনে

10

মারা গেলেন ‘গজনী’ ও ‘লগান’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা প্রদীপ রাও

11

হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রেখে ট্রাম্পকে জুনের চুক্তিতে ফেরাত

12

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ও ৪ মুসলিম দেশের মধ্যস্থতা ২০২৬ | পা

13

৬ দফা দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করবে

14

লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ অবসানে নতুন কূটনৈতিক চাল: নেপথ্যে পাকিস্তা

15

ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ইডেন গার্ডেন্সে আজ সেমিফাইনালে ওঠার

16

ইরান যুদ্ধের আগে তেলের দাম, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তি

17

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি চালু ঝুলে আছে: ইউজিসির খসড়া

18

পুশইন বন্ধের দাবিতে জামায়াত-এনসিপি জোটের বিক্ষোভ

19

লাখ টাকা ভাতা নিয়ে খেপ খেলা যাবে না: কঠোর হুশিয়ারি ক্রীড়া প্

20