নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের 'গ্রুপ অফ ডেথ'-এর এক হাইভোল্টেজ ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে রোমাঞ্চকর জয় ছিনিয়ে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা নারী দল। ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ভারতের দেওয়া ১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রোটিয়া অলরাউন্ডার মারিজান কাপের এক অনবদ্য ও অতিমানবীয় ইনিংসে ভর করে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। বল হাতে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়ে নেমেও চাপের মুখে এক অবিশ্বাস্য ঝড় তোলেন কাপ। এই জয়ের ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা টুর্নামেন্টে নিজেদের টিকিয়ে রাখল, অন্যদিকে এই হার ভারতীয় শিবিরের সেমিফাইনালে ওঠার সমীকরণকে অনেকটাই কঠিন করে তুলেছে, যেখানে পরবর্তী ম্যাচে তাদের শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হতে হবে [cite: লরা উলভার্ট: ... যদি আমরা এই ম্যাচটি হারতাম, তবে টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় ছিটকে যেতাম।, ভারতের জন্য, তাদের এখন সেমিফিয়াল খেলার জন্য অস্ট্রেলিয়াকে হারাতেই হবে ...]।
প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে ৫০-এর বেশি রান তুলে উড়ন্ত সূচনা করেছিল ভারত। কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষ হতেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও চমৎকার স্পিন ঘূর্ণির মাধ্যমে ভারতকে চেপে ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা, যার ফলে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ভারতীয় দল। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটাও মোটেও আশাবেঞ্জক ছিল না, পাওয়ার প্লেতে মাত্র ২৫ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চরম ধুঁকছিল তারা। তবে মিডল অর্ডারে মারিজান কাপের পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়।
ম্যাচ শেষে ভারতের অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর হতাশা ব্যক্ত করে জানান যে, কাপের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ বা সুযোগ ফিল্ডাররা হাতছাড়া করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় [cite: হরমনপ্রীত কৌর: ... সে আমাদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও দিয়েছিল, যা দুর্ভাগ্যবশত আমরা নিতে পারিনি।]। ভারতের পক্ষে শেফালী ও শ্রী চারণী ভালো বোলিং করলেও অন্য বোলারদের কাছ থেকে যোগ্য সমর্থন মেলেনি।
মারিজান কাপের এই ম্যাচজয়ী ইনিংস এবং দক্ষিণ আফ্রিকার এই সফল রান তাড়া নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে একাধিক নতুন রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে। চাপের মুখে মারিজান কাপ ৪টি বিশাল ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ৮১* রানের ইনিংস খেলেন, যা নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো ব্যাটারের তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ [cite: মারিজান কাপের ৮১*, দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর]। একই সাথে ইনিংসে ৪টি ছক্কা মারার মাধ্যমে কাপ দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো নারী ব্যাটার হিসেবে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড গড়েন এবং বিশ্বকাপের রান তাড়ার ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড স্পর্শ করেন [cite: কাপের ৪টি ছক্কা হলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ছক্কা, এবং রান তাড়ার ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড]।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এটিই ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা নারী দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার নতুন রেকর্ড, যেখানে এর আগের রেকর্ডটি ছিল ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে দুবাইতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৩৫ রান তাড়া করা [cite: দক্ষিণ আফ্রিকার সফল ১৫৯ রান তাড়া ..., দক্ষিণ আফ্রিকার এর আগের সর্বোচ্চ রান তাড়া ছিল ২০২৪ সালের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১৩৫ রান।]। এই ম্যাচটি ছিল ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের ক্যারিয়ারের ২০০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ, তবে দলের এমন পরাজয়ে মাইলফলকের দিনটি তাঁর জন্য বেশ বেদনাবিধুর হয়ে রইল।
মন্তব্য করুন