টানা দুই দিন কিছুটা উন্নতির দিকে থাকলেও শুক্রবার রাতের অতি ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতি ফের মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বন্যার পানিতে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়ক তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রাঙ্গামাটি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজঘাট সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় শনিবার সকাল থেকে জেলার সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া পাহাড়ধসের কারণে মাটি ও গাছ পড়ে রুমা, থানচি, আলীকদম, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়িসহ অভ্যন্তরীণ উপজেলাগুলোর সাথেও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
গত কয়েক দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জেলাজুড়ে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে শিশুসহ মোট ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভারী বৃষ্টিপাতে নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলা শহরের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় প্লাবিত এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশুদ্ধ পানি, খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক ও এনজিও। বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই ভয়াবহ মুহূর্তে বান্দরবান জেলাকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় পাহাড়ি ঢাল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জেলাবাসীকে ধৈর্য ও সতর্কতার সাথে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য বলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন