চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উত্তাপের মাঝেই বড় ধরনের বিতর্কে জড়িয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা হঠাৎ প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘটনাটি ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ইএসপিএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়ার পর বালোগুনের পরের ম্যাচে খেলার কথা ছিল না। তবে নাটকীয়ভাবে ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। অভিযোগ উঠেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সরাসরি যোগাযোগের জের ধরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একাধিক আইনপ্রণেতা। ব্যারি অ্যান্ড্রুজ, লারা ভোল্টার্স ও নিলস ফুগলসাংয়ের মতো সদস্যরা এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, টুর্নামেন্ট চলাকালীন নিয়ম পরিবর্তন করা খেলার ন্যায্যতার পরিপন্থি এবং এটি ফুটবল বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। রাজনৈতিক চাপের মুখে ফিফা তাদের সিদ্ধান্ত বদলেছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার জন্য তারা জোরালো দাবি তুলেছেন। ইতিমধ্যে ৩৫ জনেরও বেশি আইনপ্রণেতা এই তদন্তের দাবিতে সমর্থন জানিয়েছেন এবং ইউরোপীয় ফুটবল ফেডারেশনগুলোকে ফিফার এথিকস কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফিফার পক্ষ থেকে যদিও দাবি করা হয়েছে যে, বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সম্পূর্ণভাবে তাদের নিজস্ব শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত, তবুও এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন সমালোচকরা। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতো একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠায় সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে এমন বিতর্কের ছায়া টুর্নামেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। তদন্তের দাবিটি সামনে আসায় এখন দেখার বিষয়, ফিফা কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয় এবং ফুটবলের মাঠের বাইরে চলা এই রাজনৈতিক বিতর্কের শেষ কোথায় গড়ায়।
মন্তব্য করুন