বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, আর এই যাত্রায় ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বা এআই (Artificial Intelligence) হবে অন্যতম প্রধান নিয়ামক। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আইসিটি মন্ত্রী এআই-কে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।
আইসিটি মন্ত্রী তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান যুগ হচ্ছে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে এআই প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধিতে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ বিভিন্ন শিল্পখাতে এআই কীভাবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে, তা নিয়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে দেশের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির মূলধারায় বাংলাদেশ আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছাবে।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পর এখন আমাদের লক্ষ্য একটি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করা। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এআই কেবল একটি প্রযুক্তি নয়, এটি একটি সুযোগ যা আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলবে। আইসিটি বিভাগ থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তরুণদের প্রযুক্তিবান্ধব হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে তারা আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজেদের অবদান রাখতে পারে।
আইসিটি মন্ত্রীর এই প্রত্যাশা অনুযায়ী, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উদ্ভাবনী প্রয়োগই হবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার। দেশের প্রতিটি খাতে এআই-এর সংযোজন ঘটিয়ে একটি প্রযুক্তিচালিত ও আধুনিক অর্থনীতি গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
মন্তব্য করুন