বাগেরহাটের কচুয়ায় গৃহপালিত হাঁসকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে বেদার মল্লিক নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় গৃহপালিত হাঁসকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বেদার মল্লিক (৬৫) নামে এক প্রবীণ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক সহিংসতায় তার ছেলে কাইয়ুমও গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কচুয়া উপজেলার রাড়িপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ভান্ডারখোলা এলাকায় এই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল পাশের বাড়ির এক নারীর গৃহপালিত হাঁসকে কেন্দ্র করে, যার জেরে বেদার মল্লিকের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশীদের কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা হিংসাত্মক সংঘর্ষে রূপ নেয়। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রতিপক্ষের রমজান, তার স্ত্রী লামিয়া, তাদের বাবা-মা ও ছেলে একত্রিত হয়ে লাঠি এবং ঘরের দরজার ডাসা দিয়ে বেদার মল্লিক, তার স্ত্রী হালিমা, ছেলে কাইয়ুম এবং পুত্রবধূ সুমির ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ও মারধর করে।
এই নির্বিচার মারধরে বেদার মল্লিক মারাত্মকভাবে জখম হন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই হামলায় আহত হওয়া কাইয়ুম ওই হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং পরিবারের আরও দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে রমজান, তার স্ত্রী লামিয়া ও তার মাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ মামুন জানিয়েছেন যে, হাঁস নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এই মারামারির ঘটনা ঘটেছে এবং এ বিষয়ে বর্তমানে নিবিড় তদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।