ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌর শহরের শাহপুর ও আড়াইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এক হজযাত্রীর হারিয়ে যাওয়া লাগেজকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় চার ঘণ্টাব্যাপী এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৩ জুন) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন গ্রামবাসী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন বিপুল পরিমাণ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস (টিয়ারশেল) নিক্ষেপ করলেও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনিন সুলতানা জানান, সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর শাহপুর গ্রামের এক প্রবীণ নারী হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান এবং সেখানে দুর্ঘটনাবশত তাঁর একটি লাগেজ হারিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই হজযাত্রী লাগেজের খোঁজ নিতে আড়াইবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পরিচালিত ‘কসবা হজ কাফেলা’ নামক একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে যান। সেখান থেকে জানানো হয়, হারিয়ে যাওয়া লাগেজের দায়ভার সম্পূর্ণ হজযাত্রীর নিজস্ব বিষয় এবং এতে এজেন্সির কোনো হাত নেই। এই নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে, যার জেরে শনিবার সকালে দুই গ্রামের শত শত লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কদমতলী মোড়সহ আশপাশের এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের কারণে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয় এবং আঞ্চলিক সড়কগুলোতে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।
মন্তব্য করুন