দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের মহারণ শুরু হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি। ঠিক এই মাহেন্দ্রক্ষণে বাংলাদেশের কোটি ফুটবলপ্রেমী দর্শকদের প্রতি এক বিশেষ ও আকর্ষনীয় আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপের দেশ নরওয়ে। চলতি মেগা বিশ্বকাপে লাল সবুজের বাংলাদেশ দল অংশ নিচ্ছে না। তাই বিশ্বমঞ্চে এবার নরওয়েকে সমর্থন করার জন্য বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের প্রতি অফিশিয়াল অনুরোধ করেছে দেশটির রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত নরওয়েজীয় দূতাবাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ ও সুহৃদ বার্তায় নরওয়ের বাংলাদেশ দূতাবাস লিখেছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এ বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের উচিত মাঠের লড়াইয়ে নরওয়েকে প্রাণখুলে সমর্থন করা।
কেন এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মানুষ ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার মতো চেনা পরাশক্তিদের পাশাপাশি নরওয়েকে সমর্থন করবে তার বেশ কিছু চমৎকার ও যৌক্তিক কারণও ব্যাখ্যা করেছে তারা। নরওয়ের কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী ফুটবলের মাঠের বাইরেও দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে অনেক গভীর ও ঐতিহাসিক মিল রয়েছে যা সাধারণ মানুষের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি। দূতাবাস তাদের অফিসিয়াল বার্তায় স্মরণ করিয়ে দেয় যে ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মহান স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রথমদিকের স্বীকৃতি দেওয়া ইউরোপীয় দেশগুলোর একটি ছিল এই নরওয়ে। এছাড়া বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মধ্যস্থতা এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে আসছে।
দূতাবাসের বার্তায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে পারস্পরিক সম্মান, গৌরবময় ইতিহাস ও দীর্ঘদিনের অকৃত্রিম বন্ধুত্বের শক্ত ভিত্তির ওপর আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। যেহেতু বাংলাদেশ এবার মূল বিশ্বকাপে খেলছে না তাই দীর্ঘ ২৮ বছরের এক বিশাল বিরতি কাটিয়ে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মহোৎসবের মঞ্চে ফেরা নরওয়েই হতে পারে বাংলাদেশিদের জন্য সমর্থনের সবচেয়ে উপযুক্ত ও রোমাঞ্চকর একটি দল। শুধু রাজনৈতিক সম্পর্কই নয় বরং দুই দেশের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক কিছু চমৎকার মিলও এই প্রচারণায় তুলে ধরেছে নরওয়ে। তাদের মতে নদী ও সাগরনির্ভর বিস্তৃত উপকূলীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও নরওয়ের প্রাকৃতিক ক্যানভাসের মধ্যে দারুণ সাদৃশ্য রয়েছে এবং রূপালি মাছের প্রতিও দুই দেশের মানুষের এক চিরায়ত সহজাত ভালোবাসা কাজ করে।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সহযোগিতা, উন্নয়নমূলক কার্যক্রম কিংবা সবুজ ফুটবল মাঠ সব জায়গাতেই দুই দেশ সবসময় ন্যায্যতা ও সততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। নিজ নিজ মানদণ্ডে দুই দেশ আলাদাভাবে ছোট হলেও বৈশ্বিক স্বপ্ন যে অনেক বড় সেই সুন্দর মনস্তাত্ত্বিক মিলের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে তারা। নরওয়ের ভাষায় বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে তুলনামূলক ছোট এবং জনসংখ্যার হিসেবে নরওয়ে একটি ছোট দেশ হলেও বিশ্বমঞ্চে আমাদের দু’দেশেরই স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা অনেক বড়। সবশেষে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকা ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করতে বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বিধ্বংসী গোলমেশিন ও ম্যানচেস্টার সিটির সুপারস্টার আর্লিং ব্রাউট হালান্ডের জাদুকরী উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে নরওয়ের ঢাকা দূতাবাস তাদের স্ট্যাটাস শেষ করে এই বলে যে তাহলে কী বলো বাংলাদেশ এবার আন্ডারডগদের পাশে দাঁড়ানোর এবং একসঙ্গে বড় স্বপ্ন দেখার সময়।
মন্তব্য করুন